অন্ধবিশ্বাসের বলি ১২ বছরের কন্যা! পুত্রকে ‘সুস্থ’ করতে তান্ত্রিকের পরামর্শে নৃশংস খুন, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার মা-প্রেমিক-তান্ত্রিক

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে অন্ধবিশ্বাস ও কালাজাদুর নামে এক হাড়হিম করা নৃশংসতার ঘটনা সামনে এসেছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ পুত্রকে সুস্থ করে তোলার আশায় এক স্বঘোষিত তান্ত্রিকের পরামর্শে নিজের ১২ বছরের কন্যাকেই ‘বলিদান’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মা, তাঁর প্রেমিক এবং স্বঘোষিত তান্ত্রিক—তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাজারিবাগের বাসিন্দা রেশমী দেবীর ছোট ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিল। ছেলেকে সুস্থ করার মরিয়া চেষ্টায় তিনি নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক শান্তি দেবীর সঙ্গে। অভিযোগ, সেই তান্ত্রিক দাবি করেন—পরিবারের অশান্তি ও পুত্রের অসুস্থতা দূর করতে প্রয়োজন ‘মানবরক্ত’, আর তা হতে হবে পরিচিত কারও।তদন্তে উঠে এসেছে, তান্ত্রিক রেশমীকে বোঝান যে তাঁর ১২ বছরের কন্যার মধ্যে ‘দৈবিক শক্তি’ রয়েছে। কন্যাকে বলি দিলে সেই রক্তের মাধ্যমে পুত্র সুস্থ হয়ে উঠবে। অভিযোগ, এই কথায় বিশ্বাস করেই রেশমী নিজের প্রেমিক ভীম রামের সাহায্যে খুনের ছক কষেন।নবরাত্রির অষ্টমীর রাতে কিশোরীকে কৌশলে তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সুপার অঞ্জনি অঞ্জনের দাবি, সেখানে রেশমী মেয়ের পা চেপে ধরেন এবং তাঁর প্রেমিক গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে। পরে তান্ত্রিক আরও নৃশংসভাবে মৃতদেহ বিকৃত করে কালাজাদুর আচার সম্পন্ন করে বলে অভিযোগ। কিশোরীর মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।খুনের পর দেহটি বাড়ির পিছনের বাগানে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন দেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাকে অন্য খাতে ঘোরানোর চেষ্টা হলেও ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্টে আসল সত্য সামনে আসে। এরপরই মা রেশমী দেবী, প্রেমিক ভীম রাম এবং তান্ত্রিক শান্তি দেবীকে গ্রেফতার করা হয়।