মেদিনীপুর ঊরুষ শরীফের ১২৫-তম বাৎসরিক উৎসব!

সেখ ওয়ারেশ আলী : আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, মহান সুফি সাধক হযরত সৈয়দ মুরশেদ আলী আল। বাগদাদী যিনি ভক্তদের কাছে ‘মওলা পাক’ নামে সুপরিচিত — তাঁর ১২৫ তম বার্ষিক উরস শরীফ উদযাপিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদ সংলগ্ন মওলা পাকের মাজার শরীফ, তাঁর বাসস্থান দায়রা পাক এবং কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত স্ত্রীগঞ্জ পাকে বুধবার থেকেই ভক্ত ও পূণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা দরগাহ প্রাঙ্গণে হাজির হয়ে চাদর পেশ, দোয়া জন্য অংশ নিচ্ছেন।

তবে এবছরও মেদিনীপুরের পবিত্র মাটি স্পর্শ করল না বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে আগত পূণ্যার্থীদের বিশেষ ট্রেন। দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে এবছর বন্ধ রয়েছে সেই ঐতিহ্যবাহী স্পেশাল ট্রেন। ফলে যেমন মন খারাপ এপার বাংলায়, তেমনই বিষণ্ণ ওপার বাংলার ভক্তরাও।প্রসঙ্গত, মওলা পাক ছিলেন কাদেরিয়া তরিকার অন্যতম প্রধান উত্তরাধিকারী এবং মহান পী রআবদুল কাদের জিলানী গওসুল আজম-এর ২৩ তম বংশধর। বর্তমানে এই তরিকার সাজ্জাদানশীন ও মওলা পাকের স্থলাভিষিক্তের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে উরুস উৎসব পরিচালিত হচ্ছে। ইতিহাস বলছে, প্রায় আড়াইশো বছর আগে এই বংশের মহান পুরুষ হযরত সৈয়দ শাহ আব্দুল্লাহ আল জিলানী আল বাগদাদি বাগদাদ শরীফ থেকে জলপথে উড়িষ্যার চাঁদবালি বন্দর হয়ে হিন্দুস্থানে আগমন করেন।

পরে বর্ধমানের মঙ্গলকোটে কিছুদিন অবস্থানের পর তিনি ফিরে গেলেও তাঁর দুই পুত্রকে ভারতে রেখে যান—একজন মঙ্গলকোটে এবং অপরজন বিহারের পূর্ণিয়ায় স্থায়ী হন। এই দুই স্থানই আজ কাদেরিয়া তরিকার গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। মওলা পাকের পিতা মহান সুফি সাধক আল হুজুর পাকের আমল থেকেই মেদিনীপুর এই বংশের প্রধান সাধনাস্থল হয়ে ওঠে। তবে এবছর উরুস উপলক্ষে সেই চেনা জনসমাগম চোখে পড়েনি।

এই মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও সারা বছরের বড় আশা থাকে—দোকানপাট, হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রভাব পড়ে স্পষ্টভাবেই। তবুও সকলেরই আশা, আগামী বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফিরবে দুই বাংলার মিলনবন্ধন, আর মেদিনীপুরের উরুস উৎসব ফিরে পাবে তার পূর্ণ দুই বাংলার মেলবন্ধন।