১২ মার্চ উদ্বোধন ঘোলবাগদা রেলস্টেশন, ঘোষণা ট্রেনের সময়সূচি—প্রথম স্টপেজ পাঁশকুড়া–দিঘা লোকালের!

নিজস্ব সংবাদদাতা: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে চলেছে ঘোলবাগদা রেলস্টেশন। উদ্বোধনের দিন থেকেই স্টেশনে ট্রেন থামার সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গেছে, ৬৮১১৯ পাঁশকুড়া–দিঘা লোকাল ট্রেনটি বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ঘোলবাগদা স্টেশনে প্রথমবারের মতো স্টপেজ দেবে।এই স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ভগবানপুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি। ২০২৩ সালে প্রকল্পটির অনুমোদন মেলার মাত্র চার মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যায়। এরপর পাঁশকুড়া–হলদিয়া–দিঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও স্টেশনটির কাজ দ্রুত শেষ করে চালু করার দাবিতে একাধিকবার রেলমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানানো হয়।

তখন রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, স্টেশন নির্মাণের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তা সম্পন্ন হবে। শেষ পর্যন্ত রেলমন্ত্রক তাদের সেই আশ্বাস রক্ষা করে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করেছে বলেই জানানো হয়েছে।তবে নির্মাণের মাঝপথে ঠিকাদারের মৃত্যু হওয়ায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে সম্পূর্ণ হয় স্টেশনের কাজ।

তবুও শেষ পর্যন্ত দ্রুতগতিতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।তবে একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে অন্য কয়েকটি স্টেশন প্রকল্প নিয়ে। নীলকুন্ঠ্যা, দোরো কৃষ্ণনগর এবং কালিকাখালী স্টেশন—যেগুলির অনুমোদন মিলেছিল ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি—সেগুলির আর্থিক অনুমোদন পেতে প্রায় ১২ বছর লেগে যায়। এখনও পর্যন্ত ওই তিনটি স্টেশনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শুরুই হয়নি। এর মধ্যে দুটি স্টেশনের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে এবং কালিকাখালী স্টেশনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, কেন এই তিনটি এলাকার ক্ষেত্রে এত বিলম্ব হচ্ছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।পাঁশকুড়া–হলদিয়া–দিঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর বিলম্ব না করে বাকি স্টেশনগুলির কাজও দ্রুত সম্পন্ন করবে রেল কর্তৃপক্ষ।