৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি-প্রতারণার মামলা: ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে সুমিত রায়!
সেখ ওয়ারেশ আলী : শালবনির এক বালি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ফের মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হল সুমিত রায়কে। এতদিন শালবনী থানার পুলিশের হেফাজতে ছিলেন তিনি। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, অন্য ব্যক্তিদের নামে সিমকার্ড তুলে সেগুলি ব্যবহার করতেন সুমিত রায়। তদন্তে এখনও পর্যন্ত এমন ছয়জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজনের নামে দুটি সিমকার্ড এবং আরও চারজনের নামে পৃথক সিমকার্ড নেওয়ার তথ্য মিলেছে।
চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বাড়ি কলকাতার কালীঘাট থানা এলাকায় বলে আদালতে জানানো হয়েছে।ইতিমধ্যেই ওই সিমকার্ডগুলির মালিকদের নোটিস পাঠিয়ে শালবনী থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁরা থানায় হাজির হয়ে নিজেদের সিমকার্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জমা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এদিন আদালতের সামনে তুলে ধরে পুলিশ।তদন্তকারীদের নজরে এখন মূলত ওই সিমকার্ড সংক্রান্ত তথ্য এবং সেগুলির ব্যবহারের বিষয়টি।
পুলিশের দাবি, এই তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত সুমিত রায়কে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালেও তা খারিজ করে দেন বিচারক।সরকারি পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব আদালতে জানান, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে সুমিত রায়কে ফের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ, অন্যের নামে সিমকার্ড ব্যবহারের দাবি এবং সেই সূত্রে উঠে আসা নতুন তথ্য—সব মিলিয়ে মামলার তদন্তে নতুন দিক সামনে এসেছে। তবে পুলিশের অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যের সত্যতা পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।