খড়্গপুরে নাইন এমএম পিস্তলকাণ্ডে গ্রেফতার ৩, তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সেখ ওয়ারেশ আলী : বন্ধুর বাড়িতে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র কৌতূহলবশত দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত গুলিবিদ্ধ হয়েছিল খড়্গপুরে নবম শ্রেণির ছাত্র অক্ষয় ঝা। বুধবার খড়্গপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দাবি, এটি কোনও গ্যাং ওয়ার বা পরিকল্পিত হামলার ঘটনা নয়। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময়ই অসাবধানতাবশত গুলি চলে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকার বাসিন্দা সাগর কুমার রাওয়ের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে একটি নাইন এমএম পিস্তল রাখা ছিল। বুধবার সকালে সাগরের বাড়িতে যায় তার বন্ধু অক্ষয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, বাড়িতে থাকা ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি দেখতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে।

অসাবধানতাবশত পিস্তল থেকে গুলি বেরিয়ে অক্ষয়ের শরীরে লাগে।ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে সাগর তার আরও দুই বন্ধুকে ফোন করে বলে পুলিশের দাবি। এরপর ঘটনার আসল তথ্য গোপন করতে তিনজন মিলে একটি ভিন্ন গল্প তৈরি করেছিল বলেও অভিযোগ। কিন্তু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাগরের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা।এরপর সাগরের মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখে তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাগর তদন্তকারীদের কাছে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।এরপরই সাগর কুমার রাও, কোলা যজ্ঞেশ্বর রাও এবং বিশাল জানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাগরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি নাইন এমএম পিস্তল এবং তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং কীভাবে সেটি সাগরের বাড়িতে এল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও গ্যাং ওয়ার বা পরিকল্পিত হামলার যোগ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মজুতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য, খড়্গপুরে কোনওভাবেই মাফিয়া-রাজ ফিরতে দেওয়া হবে না। বেআইনি অস্ত্র মজুতের অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।কিশোরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় একদিকে যেমন বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই উদ্ধার হওয়া নাইন এমএম পিস্তলের উৎস নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।