দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১০০ দিনের কাজে ‘৬ লক্ষ ভূতুড়ে জব কার্ড’! e-KYC-তে মিলছে না হদিশ, তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক!
অভিজিৎ সাহা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একশো দিনের কাজ (MGNREGA) প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম ও ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। জব কার্ডে আধার-ভিত্তিক ডিজিটাল ফিল্টারিং ও e-KYC বাধ্যতামূলক করার পর প্রায় ৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৯৮ জন কার্ডধারীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।জেলার ২৯টি ব্লকে মোট ২৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৫০ জন জব কার্ড হোল্ডারের মধ্যে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার e-KYC এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বহু কার্ডধারী যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ। তথ্য অনুযায়ী, কুলপি, পাথরপ্রতিমা, বারুইপুর, গোসাবা, বাসন্তী, মগরাহাট-১, কুলতলি এবং ক্যানিং মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক e-KYC বাকি রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যাঁরা যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি, তাঁদের নাম বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, e-KYC বাকি থাকার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আধার ও জব কার্ডের তথ্যের অমিল, পরিযায়ী শ্রমিকদের অনুপস্থিতি, মৃত ব্যক্তিদের নামে চালু থাকা কার্ড এবং সম্ভাব্য ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট জব কার্ডের অস্তিত্ব।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ভুয়ো জব কার্ডের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী মহলের একাংশ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছে।তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক e-KYC বাকি থাকা কার্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভুয়ো’ ঘোষণা করা হয়নি। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জব কার্ড সংক্রান্ত এই তথ্য সামনে আসার পর ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও উপভোক্তা যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।