স্কোরবোর্ডে ৭-১, তবু নায়ক কুরাসাও! বিশ্বকাপে হারেও ইতিহাস গড়ল ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র
নিজস্ব সংবাদদাতা : স্কোরবোর্ডে লেখা ছিল ৭-১। মাঠে ছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির দাপট। হাভার্টজ জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না জার্মানির গোলবন্যা, বরং বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওর অদম্য লড়াই এবং তাদের প্রতি দর্শকদের অসাধারণ সম্মান। ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন কুরাসাওর লিভানো কোমেনেন্সিয়া জার্মানির বিপক্ষে গোল করে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরান। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে কুরাসাওর ইতিহাসের প্রথম গোল। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় জার্মান সমর্থকরা, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে কুরাসাওর সমর্থক গ্যালারি। পরবর্তীতে জার্মানির অভিজ্ঞতা ও শক্তির কাছে হার মানতে হলেও কুরাসাওর ফুটবলাররা মাথা নত করেননি। ম্যাচ শেষে দেখা যায়, স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন কুরাসাও দলকে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে সাত গোল খাওয়ার হতাশার মধ্যেও খেলোয়াড়রা দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। মাত্র দেড় লক্ষের কিছু বেশি জনসংখ্যার কুরাসাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। সেই কারণেই তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকেই অনেকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন। কুরাসাওর সমর্থকরাও ম্যাচ শেষে বলেন, ফলাফল নয়, বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ও ফুটবলকে তুলে ধরাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।
ম্যাচ শেষে আরও এক মানবিক দৃশ্য নজর কাড়ে। দুই দলের একাধিক ফুটবলার মাঠেই একসঙ্গে প্রার্থনা করেন এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা জানান। খেলাধুলার আসল সৌন্দর্য যে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, সেই বার্তাই যেন ফুটে ওঠে এই মুহূর্তে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলেও কুরাসাওর স্বপ্ন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সামনে রয়েছে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ। আর হিউস্টনের সেই করতালি হয়তো কুরাসাওর ফুটবলারদের মনে করিয়ে দেবে—কখনও কখনও স্কোরলাইনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে সাহস, সংগ্রাম এবং ইতিহাস গড়ার গল্প।