গৌরবের ৭২তম সমাবর্তন, আইআইটি খড়্গপুর থেকে নতুন স্বপ্নের উড়ান!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ৪ঠা জুলাই শনিবার খড়্গপুরে অনুষ্ঠিত হল ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়্গপুরের ৭২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্লেনারি স্পিকার ও প্রেসিডেন্ট প্রফেসর নিকোলাস বি. ডার্কস, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ,মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল, আইআইটি খড়্গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শেখর সি. মান্ডে, বোর্ড অফ গভর্নর্সের চেয়ারম্যান টি. ভি. নরেন্দ্রন, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. সুব্রত গুপ্ত-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ আইআইটি খড়্গপুরের বিকাশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর পথে এগিয়ে চলেছে।স্নাতকদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, আইআইটি খড়্গপুরে ভর্তি হওয়াই যেমন একটি বড় সাফল্য, তেমনি বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করা আরও বড় কৃতিত্ব। কঠোর একাডেমিক পাঠক্রম, গবেষণাগারে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম এবং নিরন্তর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যে দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তা তাঁরা অর্জন করেছেন, সেটিই তাঁদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি।

বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, জটিল সমস্যার কার্যকর ও উদ্ভাবনী সমাধান বের করার ক্ষমতাই একজন আইআইটিয়ানকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। আগামী দিনে দেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই স্নাতকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

গত ৭৫ বছরে আইআইটি খড়্গপুর কেবল ভারতের প্রথম আইআইটি হিসেবেই নয়, উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীরা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন, সফল স্টার্টআপ গড়ে তুলেছেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলির অন্যতম। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত (Viksit Bharat) গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য পূরণে আইআইটি খড়্গপুরের নবীন স্নাতকদের এগিয়ে এসে দেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে ডিগ্রি ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাবর্তন সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সাফল্য কামনা করে তাঁদের নতুন যাত্রার শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত অতিথিরা।