বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার ম্যাচ! হাইতির বিরুদ্ধে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না ব্রাজিল

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মরক্কোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ১-১ ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে শনিবার ভোরে গ্রুপ ‘সি’-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা। ভারতীয় সময় শনিবার সকাল ৬টায় ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। নকআউট পর্বে যাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে ব্রাজিলের কাছে এই ম্যাচ কার্যত ‘করো বা মরো’ লড়াই। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে শুধু পয়েন্ট খোয়ানোই নয়, ব্রাজিলের খেলার ধরনও হতাশ করেছে সমর্থকদের। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণের অভাব, আক্রমণে ধার না থাকা এবং রক্ষণে একাধিক ভুল ফুটে উঠেছিল ম্যাচজুড়ে। খেলা শেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও স্বীকার করেছিলেন, বিশ্বকাপের চাপ সামলাতে গিয়ে তাঁর দল কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা হারাতে নারাজ অভিজ্ঞ ইতালীয় কোচ। মরক্কোর বিরুদ্ধে যারা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, তাঁদের অনেককেই আরও একটি সুযোগ দিতে চান তিনি। নিজের দীর্ঘ কোচিং অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতার উপর ভর করেই ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন আনচেলত্তি।

চোটের কারণে এই ম্যাচেও দলে থাকছেন না ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। ফলে আক্রমণভাগে আবারও বড় দায়িত্ব নিতে হবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা এবং ইগর থিয়াগোকে।গোলরক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন অ্যালিসন বেকার। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক মারকুইনহোস। তাঁর সঙ্গে দেখা যেতে পারে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও ডগলাস সান্তোসকে। ডান প্রান্তে অভিজ্ঞ দানিলোকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে মাঝমাঠে। অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরোকে বেঞ্চে রেখে ফাবিনহোকে শুরু থেকেই নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন ব্রুনো গিমারায়েস এবং লুকাস পাকুয়েতা।

অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হারলেও হাইতিকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করতে চাইছে না ব্রাজিল। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই একাধিক অঘটন ঘটেছে। স্পেনকে চাপে ফেলেছে কেপ ভার্দে, তুরস্ককে বিপাকে ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ বলে কাউকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। হাইতির শক্তি তাদের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং উইংভিত্তিক ফুটবল। ডন ডিডসন ও রুবেন প্রভিডেন্সের গতি ব্রাজিলের রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারে। পাশাপাশি আক্রমণপ্রবণ ডিফেন্ডার মার্টিনও প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে সমস্যার সৃষ্টি করতে সক্ষম।

তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করতে হলে ব্রাজিলকে শুধু জিতলেই হবে না, মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে সেই চেনা সাম্বা ছন্দও। মরক্কো ম্যাচের হতাশা ভুলে বড় জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই এখন ভিনিসিয়ুসদের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাই নজর থাকবে ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার দিকে। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায়, সাম্বার জাদু আবারও দেখা যাবে কি না, তার উত্তর মিলবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠেই।