আসামের বন্যাদুর্গত শিবসাগরে ত্রাণ নিয়ে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র!
নিজস্ব সংবাদদাতা : আসামের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াল মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংগঠনের উদ্যোগে শিবসাগর জেলার তিনটি বন্যাদুর্গত গ্রামের ২০০-রও বেশি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী। পাশাপাশি ১৫০-রও বেশি ছাত্রছাত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী।মেদিনীপুর থেকে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসামের বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছন সংগঠনের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। দলে ছিলেন সংগঠনের সদস্য সুভাষ জানা, ভাস্করব্রত পতি, সুদীপ কুমার খাঁড়া, নরসিংহ দাস এবং শুভানুধ্যায়ী সমীর দেবসিংহ। শিবসাগরের স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল বিশ্বাসের সহযোগিতায় তাঁরা গোঁহাইগাঁও, নপম সেঁতিয়াগাঁও এবং ডিহিঙ্গীয়াগাঁও গ্রামে পৌঁছে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি দুর্গত এলাকার পড়ুয়াদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী।
বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।সংগঠনের সদস্য সুভাষ জানা বলেন, “এ এক অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতা। আসামের এইসব এলাকার মানুষ যেভাবে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা কঠিন। সরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা চলছে, পাশাপাশি বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরাও আমাদের সদস্য-সদস্যা এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় সাধ্যমতো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।”
সংগঠনের সম্পাদক সুজন বেরা ও সভাপতি রিংকু চক্রবর্তী জানান, সারা বছরই অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকে মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। তবে প্রয়োজনে জেলার গণ্ডি পেরিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।তাঁদের কথায়, “আসামের ভয়াবহ বন্যার খবর শুনে ঘরে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। তাই এতটা পথ পেরিয়ে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানেও সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।”