শিক্ষকদের অভাব, নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ— চার বছরের ডিগ্রি কোর্স নিয়ে সরব ছাত্র সংগঠন!

আহমদ হুসাইন লস্কর, আসাম :  গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলিতে চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম চালুর পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (AIDSO)। পাশাপাশি সংগঠনের রাজ্য কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।এআইডিএসও-র রাজ্য সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদক হেমন্ত পেগু, রাজ্য সহ-সভাপতি পল্লব পেগু এবং রাজ্য কার্যালয় সম্পাদক রূপশ্রী গোস্বামীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার উৎপল শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স বাস্তবায়ন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্বেগ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।সংগঠনের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে না তুলেই চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম চালু করায় রাজ্যের অধিকাংশ কলেজে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, এখনও বহু কলেজে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের অসংখ্য পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় নতুন শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।এআইডিএসও-র পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি কোর্সের নামে শিক্ষার্থীদের মূল বিষয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ নানা বিষয় পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ সেই বিষয়গুলির জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক বা পরিকাঠামো অধিকাংশ কলেজেই নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে এবং মূল বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার কলেজগুলিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে দাবি সংগঠনের। বহু ক্ষেত্রে একজন বা দু’জন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিভাগ পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগঠনের অভিযোগ, তিন বছর আগেই রাজ্য সরকার জানত যে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকে চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রমের চতুর্থ বর্ষ চালু হবে। তবুও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও গবেষণাগার উন্নয়নের মতো কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।বৈঠকে রেজিস্ট্রার উৎপল শর্মা জানান, ইউজিসি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্স চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে অন্তত দু’জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ কলেজেই সেই শর্ত পূরণ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনা করবে বলেও তিনি জানান।সংগঠনের পক্ষ থেকে ফি বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাদের দাবি, রাজ্য সরকারের অনুদান কমে যাওয়ার ফলে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফি বাড়াতে হয়েছে, যার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের নেতারা।এআইডিএসও আরও জানায়, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ডিগ্রি ও সার্টিফিকেটের কাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। চার বছরের কোর্স সম্পূর্ণ করতে না পারলে এবং কলেজের পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝপথে পড়াশোনা শেষ করতে বাধ্য হলে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে মেজর বা অনার্সের উল্লেখ কীভাবে থাকবে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার জানান, তিন বছরের ডিগ্রি সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে অনার্সের উল্লেখ থাকবে।স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলে সংগঠন। তাদের বক্তব্য, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর সুপারিশ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে তা কার্যকর হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তিন বছর পর কোর্স ছাড়তে বাধ্য হওয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।রেজিস্ট্রার অবশ্য আশ্বস্ত করে জানান, তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্নাতকোত্তর আসন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, যোগ্য কোনও শিক্ষার্থী যাতে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলি দ্রুত কার্যকর না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে তারা।