সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য? চ্যাট ‘ফাঁস’ করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের!
অভিজিৎ সাহা: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমনকি সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের বদলে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।১৮ই ফেব্রুয়ারি বুধবার নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে নির্বাচন কমিশনের একটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন অভিষেক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ রোল অবজ়ার্ভার হিসেবে উল্লেখিত এক আধিকারিক—সি. মুরুগন—মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। অভিষেকের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সহায়ক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। তাঁরা তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করবেন, কিন্তু প্রশাসনিক বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই।তাঁর প্রশ্ন, “আদালত যখন স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছে, তখন কোন নির্দেশে এবং কার অনুমতিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের মাধ্যমে জন্ম শংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে?”অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, রোল অবজ়ার্ভারদের জেলাভিত্তিক নিয়োগ করা হলেও তাঁদের লগইন শংসাপত্র কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় স্থান থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, স্বাধীন তদন্ত হলে লগইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন ও আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলবে না। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।অভিষেকের কথায়, “নির্বাচন কমিশনের বৈধতা আসে জনবিশ্বাস থেকে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়।” তিনি জানান, বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তোলা হবে।এদিকে, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নাম না করেও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বুধবার দুপুরে তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাবে বলেও দল সূত্রে জানা গিয়েছে।নির্বাচন কমিশনের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।