পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ আফগানিস্তানের, নিহত শিশু-সহ একাধিক সাধারণ মানুষ; পাল্টা হুঁশিয়ারি আফগানিস্তান সরকারের!

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই অস্থিরতার মাঝেই প্রতিবেশী দুই দেশ Afghanistan ও Pakistan-এর সংঘর্ষ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। তালেবান প্রশাসনের দাবি, গত রাতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান রাজধানী Kabul-সহ একাধিক এলাকায় হামলা চালায়। এই হামলায় কাবুলে চারজন এবং পূর্ব আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তালেবানদের অভিযোগ, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষের বসতি এলাকা, ফলে বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি বিমান হামলা হয়েছে Kandahar, Paktia Province-সহ একাধিক এলাকায়। তালেবান সরকার জানায়, জনবহুল এলাকায় বোমাবর্ষণের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এই ঘটনার পর পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তান।আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের মুখপাত্র Zabihullah Mujahid শুক্রবার ‘X’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে জানান, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী কন্দাহার বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত বেসরকারি বিমান সংস্থা Kam Air-এর জ্বালানি ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।অন্যদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, তারা কাবুল এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত “চারটি সন্ত্রাসী ঘাঁটি”-তে সফল বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের মতে, এই অভিযানে কন্দাহার বিমানবন্দরের একটি তেল সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায় হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। ২৯ বছর বয়সী দিনমজুর আব্দুল ওয়াহিদ সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর বাড়িতে বিস্ফোরণের আঘাত লাগে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য আহত হন।ওয়াহিদের কথায়, আচমকা পাশের একটি বাড়ি থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর চারপাশ থেকে ইট-পাথরের ধ্বংসস্তূপ তাঁর ওপর ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নারী ও শিশুরাও চাপা পড়ে ছিল। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তিনি সেই অবস্থায় আটকে ছিলেন, পরে প্রতিবেশীরা এসে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।এর আগেও বৃহস্পতিবার পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানের গোলন্দাজ বাহিনী ও মর্টার হামলায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল। আন্তর্জাতিক মহল দুই দেশকেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত থাকায় সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।