ফুটবল বিশ্বকাপে আফ্রিকার দাপট,১০ দলের মধ্যে ৯টির নকআউটে, চমকে দিল কেপ ভার্দে, কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা !

নিজস্ব সংবাদদাতা : ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষ হতেই নজর কেড়েছে আফ্রিকার দেশগুলির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। অংশ নেওয়া ১০টি আফ্রিকান দলের মধ্যে ৯টিই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। একের পর এক চমক দেখিয়ে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা এবার নকআউট পর্বে বড় লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছে প্রথমবারের বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেন ও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মতো দলের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকেও অপরাজিত থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে তারা। গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে কঙ্গোও। পর্তুগালকে রুখে দিয়ে শুরু করা তাদের দুর্দান্ত যাত্রা গ্রুপ পর্ব জুড়েই অব্যাহত ছিল। দলের আক্রমণভাগে উইসা ও বিশাকারা প্রতিপক্ষের রক্ষণে বারবার চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিন ম্যাচে তিন গোল করে উইসা দলের অন্যতম নায়কে পরিণত হয়েছেন। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকাও দেখিয়েছে নিজেদের সামর্থ্য। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়াকে পিছনে ফেলে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান দখল করে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। মিশরের হয়ে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে দলও সফলভাবে শেষ ৩২-এ পৌঁছেছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত মরক্কো প্রত্যাশা অনুযায়ী নকআউটে উঠেছে। ইরাককে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে সেনেগাল। তাদের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম গড় বয়সের দল আইভরি কোস্টও নজর কেড়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে তারা। ইকুয়েডরকে হারানোর পাশাপাশি জার্মানির বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হারলেও,শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে পরাজিত করে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আলোচনায় আসা ঘানাও নকআউটে পৌঁছেছে। অন্যদিকে নাটকীয় গ্রুপ পর্ব শেষে রিয়াদ মাহরেজের নেতৃত্বাধীন আলজেরিয়া ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে খেলতে এসে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলো কেবল ফলাফলেই নয়, বরং গতি, শারীরিক সক্ষমতা, উচ্চ মাত্রার ইনটেনসিটি এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার দিক থেকেও নিজেদের আলাদা করে তুলেছে। বিশ্ব ফুটবলের শক্তির ভারসাম্যে আফ্রিকার উত্থান যে আরও স্পষ্ট হচ্ছে, এবারের গ্রুপ পর্ব তারই জোরালো ইঙ্গিত দিল।