১২০০ কোটির ঘোষণার পরই ৮ দফা দাবি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে সরব সংগ্রাম কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা :ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পর নিম্নচাপজনিত টানা বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও নদীবাঁধ ভেঙে না গেলেও বিভিন্ন ব্লকের বহু এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘাটালের কিছু এলাকায় বারবার বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থায়ী সমাধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে সরব হল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি।বুধবার বীরসিংহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য চলতি অর্থবর্ষে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করার পরই সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আট দফা দাবিসহ স্মারকলিপি পেশ করে সংগ্রাম কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সিংহভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।সংগ্রাম কমিটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, কার্যকরী সভাপতি সত্যসাধন চক্রবর্তী, সহ-সম্পাদক অঞ্জন জানা, জগবন্ধু মাজী-সহ অন্যান্যরা।কমিটির পক্ষ থেকে নারায়ণ চন্দ্র নায়কের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিলাবতী নদী পলি ও মাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঘাটালের জলনিকাশ ব্যবস্থায় সমস্যা আরও বেড়েছে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ‘নো কস্ট’ পদ্ধতিতে নদী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত গতিতে কাজ এগোয়নি। এর ফলে প্রতি বর্ষায় মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে জলযন্ত্রণার মুখে পড়তে হচ্ছে। নদী ও খাল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা সরকারি নথিতেও দীর্ঘদিন ধরে উঠে এসেছে।

সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপিতে মূলত মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ ও নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—

১. ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম কমিটির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে সেচ দফতরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শিলাবতী নদীর নিম্নাংশ দ্রুত সংস্কার।

২. ‘নো কস্ট’ পদ্ধতি বাতিল করে পূর্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে শিলাবতীর নিম্নাংশের ২৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সরকারি জমি চিহ্নিত করে সেচ দফতরের কাটিং চার্ট অনুযায়ী সংস্কারযোগ্য অংশ দ্রুত মার্কিং করার দাবি জানানো হয়েছে।

৩. নদী ও খাল সংস্কার থেকে পাওয়া মাটি ব্যবহার করে দুর্বল নদীবাঁধগুলিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেসব এলাকায় বাঁধ কার্যত নেই, সেখানে স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ নির্মাণ।

৪. নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদাররা কাজ করছেন কি না, তা নজরে রাখতে গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন।

৫. চন্দ্রেশ্বর খালকে শিলাবতীর সঙ্গে সংযুক্তকরণ, পাম্প হাউস ও ডোয়ার্ফ ওয়াল নির্মাণ-সহ মাস্টার প্ল্যানের প্রথম পর্যায়ের বাকি কাজ দ্রুত ধাপে ধাপে শুরু করা।

৬. শিলাবতী নদীর উপর সাহেবঘাট এবং রূপনারায়ণ নদের উপর বন্দর এলাকায় কংক্রিটের সেতু নির্মাণ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা বাঁশ বা কাঠের সেতুগুলিকে ধাপে ধাপে স্থায়ী কংক্রিটের সেতুতে রূপান্তর।এছাড়াও নদী-খাল সংস্কার, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং বাঁধের স্থায়িত্ব বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক দাবি স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।সংগ্রাম কমিটির বক্তব্য, ঘাটালবাসীর কাছে মাস্টার প্ল্যান কোনও নতুন দাবি নয়; বছরের পর বছর ধরে বন্যা ও জলবন্দি পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আন্দোলন চলছে। এবার ১২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণার পর প্রকল্পের কাজ যাতে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবে এগোয়, সেটিই তাঁদের প্রধান দাবি।