ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স, ঝাড়খণ্ডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে জঙ্গলে আছড়ে পড়ল বিমান, ৭ জনেরই মৃত্যু!

অভিজিৎ সাহা: উন্নত চিকিৎসার আশায় রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়ে গিয়েছিল একটি চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছনো হল না। মাঝআকাশেই ঘটে গেল ভয়াবহ বিপর্যয়। সোমবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ডের ছাতরা জেলার কাসিয়াতু জঙ্গলে ভেঙে পড়ে সাত আরোহী-সহ বিমানটি। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত জনেরই মৃত্যু হয়েছে।বিমানটি ছিল একটি Beechcraft King Air BE9L মডেলের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। পরিষেবাটি পরিচালনা করছিল দিল্লিভিত্তিক Redbird Airways Pvt Ltd। অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা Directorate General of Civil Aviation (DGCA) সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে Ranchi থেকে উড্ডয়ন করে বিমানটি। রাত ১০টা নাগাদ Delhi-তে অবতরণের কথা ছিল।কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির।

সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার ঠিক আগে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বিমানটি এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে ১৮ হাজার ফুটে ওঠার অনুমতি চেয়েছিলেন পাইলটরা। এরপরই রাডার থেকে হারিয়ে যায় সেটি।বিমানে ছিলেন পাইলট-ইন-কম্যান্ড বিবেক বিকাশ ভগত, কো-পাইলট সবরাজদীপ সিং, চিকিৎসক ডাঃ বিকাশ কুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক স্টাফ সচিন কুমার মিশ্র, রোগীর দুই আত্মীয় অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার এবং অগ্নিদগ্ধ রোগী সঞ্জয় কুমার (৪১)। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত দিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র রোগীর মৃত্যুর খবর মিললেও পরে প্রশাসন জানায়, সাত জনের কেউই বাঁচেননি। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণ— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB)-এর বিশেষ দল।মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।