‘সিংঘম’ ইমেজে কড়া বার্তা—দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে জোর চর্চা!

অভিজিৎ সাহা : উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তথাকথিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পাল শর্মা-কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।মাঠে নেমেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ভোট চলাকালীন কোনওরকম ভয়ভীতি, প্রভাব খাটানো বা সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগে জড়িত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, গত কয়েক দশকের তুলনায় এবারের নির্বাচন অনেকটাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হচ্ছে, তবে কোনও অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

অজয় পাল শর্মা সম্পর্কে জানা যায়, তিনি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা এই আধিকারিক প্রথমে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর ইউপিএসসি পাশ করে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই অপরাধ দমনে তাঁর কড়া ভূমিকার জন্য পরিচিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ‘হাফ এনকাউন্টার’ বা পায়ে গুলি করে অপরাধী ধরার কৌশলেও তাঁর নাম বিশেষভাবে আলোচিত।শুধু দুষ্কৃতী দমন নয়, পুলিশ বিভাগের ভেতরেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে তাঁকে। একাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বর্তমানে তিনি প্রয়াগরাজে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ইতিমধ্যেই টহল শুরু করেছেন তিনি। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং সরাসরি সতর্কবার্তা দিচ্ছেন—ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তাঁর এই কড়া অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলা এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।