নিজস্ব সংবাদদাতা: সুস্থ থাকতে জলপানের বিকল্প নেই। তবে এখন সাধারণ জলের পাশাপাশি অ্যালকালাইন ওয়াটার নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ। বিরাট কোহলি থেকে নীতা অম্বানী—অনেক পরিচিত মুখের পছন্দের তালিকায় থাকায় এই জল নিয়ে কৌতূহলও বেড়েছে। অ্যালকালাইন ওয়াটার কি সত্যিই সাধারণ জলের চেয়ে বেশি উপকারী? উল্লেখ্য,সাধারণ পানীয় জলের পিএইচ মান প্রায় ৭। অন্যদিকে, অ্যালকালাইন ওয়াটারের পিএইচ সাধারণত ৮ থেকে ৯.৫-এর মধ্যে থাকে। এতে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো কিছু খনিজ উপাদান যুক্ত করা হয়, যার ফলে জলের ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধিপায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকালাইন ওয়াটার নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা যেমন ঠিক নয়, তেমনই একেবারে অস্বীকার করারও কারণ নেই। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে।
শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে: পর্যাপ্ত জল শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম, পুষ্টি পরিবহন এবং হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক: আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে অম্লের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষারীয় জল কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
হজমে সহায়তা: শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক থাকলে হজম প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে এর জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও সমান জরুরি।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ইতিবাচক ভূমিকা: শরীরে পর্যাপ্ত জলের উপস্থিতি বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজকে সচল রাখে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
খনিজের জোগান: ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মত আবার, লেবুর রস ও শসা মিশিয়ে বাড়িতেও এক ধরনের ক্ষারীয় জল তৈরি করা সম্ভব। তবে বাজারে পাওয়া অ্যালকালাইন ওয়াটারের সঙ্গে বাড়িতে তৈরি পানীয়ের উপাদান ও কার্যকারিতার পার্থক্য থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে,অ্যালকালাইন ওয়াটার স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হতে পারে। তবে, অ্যালকালাইন ওয়াটার কোনও ‘ম্যাজিক ড্রিংক’ নয়। সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ ও পরিষ্কার সাধারণ পানীয় জলই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। তাই সুস্থ থাকার আসল মন্ত্র হলো সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পর্যাপ্ত জলপান।