দুর্গাপুরে সরকারি জমি দখল ও পুকুর ভরাটের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বেনাচিতিতে সরকারি জমি দখল এবং দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের (DSP) নামে নথিভুক্ত একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে লিখিতভাবে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন দুর্গাপুরের আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত মল্লিক। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন।লিখিত অভিযোগে সুব্রত মল্লিক দাবি করেছেন, মৌজা ফরিদপুর, জে.এল. নম্বর ৭৪-এর অন্তর্গত DSP-র নামে নথিভুক্ত একটি পুকুর বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমিটি আরএস দাগ নম্বর ৭৮২ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে এলআর দাগ নম্বর ২৯১ ও ১৩১২-তে রূপান্তরিত হয়েছে। পুকুর সংলগ্ন সরকারি জমিও দখল করে সেখানে পাঁচিল তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর পৌরনিগমের কমিশনার এবং পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছে অবিলম্বে পদক্ষেপের আবেদন জানান আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব বিভাগের অতিরিক্ত জেলাশাসক দুর্গাপুরের বিএলআরও-কে তদন্তের নির্দেশ দেন।এরপর দুর্গাপুর-ফরিদপুর বিএলআরও-র নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফিল্ড এনকোয়ারি করা হয়। পাশাপাশি দফতরের নথিপত্র, আরএস ও এলআর মানচিত্র এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়।তদন্তের পর অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো স্ট্যাটাস রিপোর্টে বিএলআরও জানান, আরএস প্লট ৭৮২-এর সমতুল্য এলআর প্লট হল ১৩১২। আরএস রেকর্ডে সংশ্লিষ্ট জমির শ্রেণি হিসেবে পুকুরের উল্লেখ থাকলেও এলআর মানচিত্রে ওই প্লটে কোনও পুকুর বা জলাশয়ের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন তদন্তেও বর্তমানে সেখানে কোনও জলাশয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএলআরও-র রিপোর্ট অনুযায়ী, জমিটির একাংশ বর্তমানে ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ এবং অন্য অংশে একটি রাস্তা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর আগে ওই এলাকায় একটি জলাশয় বা ডোবা ছিল।দফতরের রেকর্ডে দেখা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্লটটি বর্তমানে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের (DSP) নামে রেকর্ডভুক্ত এবং জমিটির শ্রেণিবিভাগ ‘পতিত’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে সেখানে কোনও জলাশয় নেই এবং জমিটি একটি সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, সরকারি জমি দখল করে পাঁচিল নির্মাণ এবং পুকুর ভরাটের যে অভিযোগ উঠেছে, সেই অংশটি নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে। বিএলআরও তাঁর তদন্ত ও অবস্থা-প্রতিবেদন অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করেছেন।তবে যে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের পরই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং আইনভঙ্গের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।