আন্তর্জাতিক ক্যারাটে মঞ্চে মেদিনীপুরের অনুষ্কার বাজিমাত, জোড়া পদকে উজ্জ্বল শহরের নাম!
সেখ ওয়ারেশ আলী : মাত্র ১২ বছর বয়সেই ক্যারাটের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখল মেদিনীপুর শহরের মিয়াবাজার এলাকার খুদে ক্রীড়াবিদ অনুষ্কা ঝা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রুপো ও ব্রোঞ্জ—জোড়া পদক জিতে মেদিনীপুরের নাম উজ্জ্বল করেছে সে।গত ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ১০তম আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। ভারত ছাড়াও আরও ৯টি দেশের প্রতিযোগীরা এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
ভুটান, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার প্রতিযোগীদের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে অনুষ্কা। তার ঝুলিতে আসে রুপোর পদক। এরপর কুমিতে বিভাগেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে তৃতীয় স্থান দখল করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় এই খুদে ক্রীড়াবিদ।আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুপো ও ব্রোঞ্জ—জোড়া পদক জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই খুশি অনুষ্কার পরিবার, কোচ এবং এলাকার মানুষ। এই সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার কোচ রাসবিহারী পাল স্যারের।
পাশাপাশি মেয়ের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত পাশে রয়েছেন বাবা অভিজিৎ ঝা ও মা নয়না ঝা।তবে অনুষ্কার স্বপ্ন শুধুমাত্র ক্যারাটে মঞ্চে সাফল্য পাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে দেশের হয়ে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করতে চায় সে।কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে অনুষ্কার সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সমস্যা। সেনাবাহিনীর স্কুলে পড়াশোনা ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া সহজ নয়।
তাই মেয়ের প্রতিভা ও স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সেনাবাহিনীর স্কুলে ভর্তি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন অনুষ্কার বাবা-মা।আজ আন্তর্জাতিক পদকের ঝিলিকে উজ্জ্বল মেদিনীপুরের অনুষ্কা ঝা। হাতে রুপো-ব্রোঞ্জের পদক, আর চোখে আরও বড় স্বপ্ন। ক্যারাটের মঞ্চ পেরিয়ে একদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাক পরে দেশের সেবা করাই এখন এই খুদে প্রতিভার লক্ষ্য।