সরকার উল্টে দেব’ স্লোগান, আশা কর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে তীব্র উত্তেজনা রাজ্যজুড়ে বাধা, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ—কী দাবি আন্দোলনকারীদের?

অভিজিৎ সাহা : ন্যূনতম বেতন ও সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে স্বাস্থ্যভবন অভিযানে নামলেন রাজ্যের আশা কর্মীরা। তবে অভিযান শুরুর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের আটকানো, ট্রেন ও বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং কোথাও কোথাও থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ও জিআরপি-র বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা।২১শে বুধবার সকাল থেকেই শিয়ালদা, নিউ জলপাইগুড়ি, মালদা টাউন, অন্ডাল, রানিগঞ্জ, কাটোয়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ একাধিক স্টেশন ও সড়কে কলকাতামুখী আশা কর্মীদের যাত্রা ব্যাহত করা হয় বলে অভিযোগ। কোথাও ট্রেনে উঠতে বাধা, কোথাও আবার বাসে উঠলেও মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

শিয়ালদা স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে একাধিক আশা কর্মীকে আটকে রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকের ডাক থাকায় তাঁরা কলকাতায় আসছিলেন। কিন্তু কোনও লিখিত নির্দেশ না দেখিয়েই GRP তাঁদের আটকাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছনো আটকাতেই এই পদক্ষেপ।একই ছবি ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলেও। বহু জায়গায় পুলিশের বাধার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভে বসেন আশা কর্মীরা। কোথাও কোথাও রেললাইনের উপর শুয়ে পড়েও প্রতিবাদ জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পোশাক দেখেই তাঁদের আটক করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক চাপে ভাড়াগাড়িও মিলছে না।অন্যদিকে, স্বাস্থ্যভবন চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিচয়পত্র যাচাই করে তবেই ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অশান্তির আশঙ্কায় সকাল থেকেই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।আশা কর্মীদের মূল দাবি ন্যূনতম মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ সমস্ত বকেয়া ভাতা অবিলম্বে মেটানোএই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই গত ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি চালাচ্ছেন তাঁরা।

এদিকে, রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। যদিও আন্দোলনকারীরা সেই অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন—দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিকে কেন বারবার রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে? উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে রয়েছেন। আজ স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার কথা থাকলেও, তার আগেই রাজ্যজুড়ে ধরপাকড় ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।