বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি বৈঠক: দিল্লি যাচ্ছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল, এক দফায় ভোটের প্রস্তাব নিয়ে জল্পনা!
অভিজিৎ সাহা: আগামী এপ্রিল–মে মাসে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম ও পুদুচেরির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্চের গোড়াতেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা। এরই মধ্যে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল।সিইও দফতর সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই বৈঠক মূলত রুটিন প্রস্তুতি বৈঠক হলেও, পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এক দফায় করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও কত দফায় ভোট হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই। তবু সিইও দফতরের তরফে এক দফায় ভোট আয়োজনের পক্ষে মত দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। ফলে দিল্লির বৈঠকে মনোজ আগরওয়াল কী প্রস্তাব দেন, তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, অতিমারির আবহে ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন সমালোচনার মুখে পড়ে। তার আগে ২০১৬ সালে সাত দফায় এবং ২০১১ সালে ছ’দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।এদিকে এসআইআর পর্ব ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগে নির্ধারিত ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না বলে কমিশনের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে।সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইআরও-দের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কাজ শেষ হলে ডিইও মূল্যায়ন করবেন। এরপর সিইও দফতর যাচাই করে নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। ৯ই ফেব্রুয়ারি সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে কমিশনের কাজ ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক নিয়েও মন্তব্য করেছে আদালত। কমিশনের অভিযোগ, নিয়ম-বহির্ভূত কাজের অভিযোগে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য তা পুরোপুরি কার্যকর করেনি।