সচেতনতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ—গোদাপিয়াসাল স্কুলে শিশু অধিকার ও আইন সচেতনতা কর্মসূচি!
অভিজিৎ সাহা: বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা এবং আইন সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোদাপিয়াসাল মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো 'বিদ্যালয় সচেতনতা অভিযান'। 'শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি' প্রকল্পের আওতায় এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চ্যাপলিন ক্লাব। কর্মসূচিটি পরিচালিত হয় জেএসডব্লিউ সিমেন্ট লিমিটেড, শালবনি-এর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) উদ্যোগের অংশ হিসেবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞরা সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় শিক্ষার্থীদের আইনগত সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, শিশু পাচারের ঝুঁকি, সাইবার অপরাধ থেকে আত্মরক্ষার উপায়, সামাজিক কুসংস্কার ও কলঙ্ক দূরীকরণ এবং শিশুদের মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের নানা জিজ্ঞাসা তুলে ধরলে বিশেষজ্ঞরা তার বাস্তবসম্মত উত্তর দেন। ফলে গোটা অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক এবং শিক্ষণীয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ান স্টপ সেন্টার (ওএসসি)-এর কেন্দ্র প্রশাসক পারমিতা বক্সী ভট্টাচার্য, ওএসসি-র কর্মী কথাকলি বোস, জেলা শিশু সহায়তা কেন্দ্রের সমাজকর্মী কমলেশ নাথ এবং জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (ডিএলএসএ)-এর প্যারালিগ্যাল ভলান্টিয়ার অভিজিৎ দাস। তাঁরা শিশুদের আইনি অধিকার, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার উপায়, বিপদের সময় করণীয় এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। সমগ্র কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে ছিলেন চ্যাপলিন ক্লাবের প্রতিনিধি মলয় সামন্ত এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মণিকঞ্চন রায়। তাঁদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন, নিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মত উপস্থিত অতিথিদের। আয়োজকদের বক্তব্য, শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা নয়, বাস্তব জীবনে নিরাপদ ও সচেতন থাকার জন্য আইনি জ্ঞান এবং সামাজিক সচেতনতা সমানভাবে জরুরি। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।