রাজ্যে একসঙ্গে দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু, মেদিনীপুরে জেলা অনুষ্ঠান!

সেখ ওয়ারেশ আলী : স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। রবিবার, ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY) এবং রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। দুই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ৩ কোটি ৩৯ লক্ষ উপভোক্তাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে মেদিনীপুর শহরের শহিদ প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে আয়োজিত হয় জেলা স্তরের অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সারঙ্গি, নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি, তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা, খড়গপুর গ্রামীণ কেন্দ্রের বিধায়ক দিনেন রায়-সহ প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানান, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৩২ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

যেসব উপভোক্তার KYC প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং কার্ড তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, তাঁদের হাতে আগামী দিন থেকেই কার্ড তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। যাঁদের KYC বা কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তা শেষ হওয়ার পর তাঁদেরও কার্ড প্রদান করা হবে।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি হাসপাতাল ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে। ফলে জেলার বাসিন্দাদের চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।এই স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, উপভোক্তারা পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও প্রকল্পের আওতাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে পারবেন। ফলে ভিনরাজ্যে কর্মরত কিংবা নিয়মিত যাতায়াতকারী রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্যও এই প্রকল্প বিশেষভাবে কার্যকর হবে।শুধু স্বাস্থ্যবিমা নয়, সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ৪৫৮টি জন ঔষধি কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি ১০০টি অমৃত ফার্মেসি খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রশাসনের দাবি, এই দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প এবং কম দামে ওষুধের পরিষেবা চালু হওয়ায় বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির চিকিৎসা খরচের চাপ অনেকটাই কমবে। ১৬ আগস্ট থেকে রাজ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই নতুন ব্যবস্থার সূচনাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।