শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কাঁপছে বেঙ্গালুরু! Capgemini ডে কেয়ারের পাঁচ কর্মী পুলিশের জালে!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বেঙ্গালুরুর একটি আইটি সংস্থার ক্যাম্পাসে পরিচালিত ডে কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় আইটি সংস্থা ক্যাপজেমিনির (Capgemini) ক্যাম্পাসে থাকা ‘লিটল বাডস ডে কেয়ার’-এর পাঁচ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছে এইচএএল (HAL) থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোম্পানির কর্মীদের শিশুদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৯ জুন একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ইতিমধ্যেই ঘটনায় সামনে আসা কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (FSL) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক জানান, ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মীর নির্দিষ্ট ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে। এফআইআর-এ ক্রেচের তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুলা, বিজয়লক্ষ্মী, ভবানী, সিন্ধু এবং বিন্দুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী তিলাকেশ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ধারা ৩৫১(২) এবং কিশোর বিচার (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৫-এর ধারা ৭৫ অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন ব্রুকফিল্ডে অবস্থিত ক্যাপজেমিনির(Capgemin) ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা ‘লিটল বাডস ডে কেয়ার’-এ এই ঘটনাগুলি ঘটে। অভিযোগকারীর দাবি, ক্রেচের ইন-চার্জ ও অন্যান্য কর্মীরা শিশুদের উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনও শিশু কাঁদলে বা দুষ্টুমি করলে তাকে মারধর করা হতো, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হতো, বাথরুমে আটকে রাখা হতো, গায়ে জল ঢেলে দেওয়া হতো এবং নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। শিশুদের কান্নার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে, বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।ঘটনার পর ১ জুলাই ক্যাপজেমিনি এক বিবৃতিতে জানায়, তদন্তে তারা পুলিশের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ডে কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং জানান, ঘটনার তদন্তে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, চাইল্ড হেল্পলাইনে অভিযোগ পাওয়ার পরই এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।