জিতেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’? তারেক রহমানের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় চমক, সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জোর জল্পনা

অভিজিৎ সাহা : বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে চলা মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। দলীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৪০ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে— সদ্য নির্বাচিত সাংসদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গুঞ্জন, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন তিনি। ভোটে জয়ের পর তারেক রহমানের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের মঞ্চেও গয়েশ্বরের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার সরকারে ১৯৯১-৯৬ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯১-৯৩ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিএনপির সঙ্গে যুক্ত—১৯৭৮ সাল থেকে দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রতীকে জয়ী হওয়া মাত্র দু’জন হিন্দু প্রার্থীর একজন তিনি। এর আগে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি; এবারই প্রথম সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আব্দুল মঈন খানের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এঁদের অনেকেই অতীতে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলেছেন।একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকেও সামনে আনার ইঙ্গিত মিলছে। সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে শামা উবায়েদ (ফরিদপুর-২), আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ-৩) এবং ফারজানা শারমিন পুতুল (নাটোর-১)-এর নামও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে।যদিও মন্ত্রিসভা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করতে পারে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান কাদের নিয়ে সাজান তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভা।