মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঊরুশ উৎসবে এবছরও অংশ নিতে পারছেন না বাংলাদেশের পুন্যার্থীরা!
সেখ ওয়ারেশ আলী : মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী ঊরুশ উৎসবে এবছরও অংশ নিতে পারছেন না বাংলাদেশের পুন্যার্থীরা। দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক টানা পোড়েনের জেরে ১২৪ বছরের ইতিহাসে ফের এবার ও বন্ধ থাকছে বাংলাদেশের ‘ঊরুশ স্পেশাল’ট্রেন। বাংলাদেশে নির্বাচন। তার আগে থেকেই সে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কেও তৈরি হয়েছে দূরত্ব।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবছর ও মেদিনীপুরের ঊরুশে অংশগ্রহণের জন্য কোনওরকম উদ্যোগ নেয়নি বাংলাদেশস্থিত ধর্মীয় সংস্থা আঞ্জুমান ই কাদেরিয়া। এই সংস্থাই প্রতি বছর বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে প্রায় দুই হাজার এর বেশি পুন্যার্থী নিয়ে মেদিনীপুরে মাওলা পাকের ঊরুষ উৎসবের বিশেষ ট্রেন চালানোর দায়িত্বে থাকত। কিন্তু এবছর পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় দুই দেশের সরকারের কাছেও কোনও আবেদন জানানো হয়নি। আঞ্জুমান ই কাদেরিয়ার সভাপতি মহম্মদ মহবুব উল আলম জানিয়েছেন“বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মেদিনীপুর না আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবার দুই দেশের মেলবন্ধনের স্পেশাল ট্রেন নিয়ে আসতে পারব।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বাংলার ফাল্গুন মাসের ৪ তারিখ মেদিনীপুর শহরের মির্জামহল্লা জোড়া মসজিদে মহান সুফি সাধক সৈয়দ শাহ মুর্শেদ আলি আলকাদেরী আলবাগদাদী তথা মওলাপাকের ঊরুশ পালিত হয়। এবছর ১২৫ তম ঊরুশ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। এই উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় শহরে। ঊরুশ চলাকালীন মির্জামহল্লা জোড়া মসজিদ ও মাঝার এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিদেশি ভক্তদের মধ্যে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পুন্যার্থী আসেন প্রতি বছর। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে একটি বিশেষ ট্রেন মেদিনীপুরে আসত। তবে মুক্তিযুদ্ধ ও করোনা পরিস্থিতিতে ৪ বছর এই ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। গত বছর ফের চালুর চেষ্টা হলেও অনুমতি মেলেনি।
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন সহ নানা ইস্যু সামনে আসায় দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে জটিলতা। গত বছর যেমন পুন্যার্থীদের আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, এবছর পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ায় উদ্যোক্তারা আবেদন করতেই আসার জন্য। সব মিলিয়ে এবছর বাংলাদেশের ভক্তদের অনুপস্থিতিতেই পালিত হবে মেদিনীপুরের ঊরুশ। তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার দুই দেশের মেলবন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠলে ‘ঊরুশ স্পেশাল’ ট্রেন আসবে—এই আশাতেই রয়েছেন ভক্ত ও আয়োজকরা।