বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগে সাসপেন্ড বারুইপুর থানার আইসি ও সাব-ইনস্পেক্টর
অভিজিৎ সাহা: ভোটের ফলপ্রকাশের পর বিজেপি প্রার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের মাঝেই বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি সমর দে এবং সাব-ইনস্পেক্টর সুকুমার রুইদাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।অভিযোগ, গত ৫ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরদিন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে প্রকাশ্যে মারধর করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে বলে দাবি, থানার আইসি সমর দে-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী বিশ্বজিৎ পালকে জোর করে একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছেন। যদিও ভাইরাল সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি ‘বিপ্লবী সংবাদ দর্পণ’।বিজেপির অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর এলাকায় ভাঙচুরের একটি ঘটনার তদন্তে পুলিশ পৌঁছেছিল। সেই সময় রাস্তায় বিশ্বজিৎ পালকে দেখতে পেয়েই বিনা প্ররোচনায় তাঁর উপর চড়াও হয় পুলিশ। শুধু মারধরই নয়, বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের।ঘটনার পর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিশ্বজিৎ পাল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই বারুইপুর থানার আইসি ও এক সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, পুলিশের একাংশের বক্তব্য, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের তরফে বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে দুই পুলিশ আধিকারিকের সাসপেনশনের ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।