নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলের বইয়ে বড়সড় বদল! প্রথম পাতায় সংবিধানের প্রস্তাবনা, দ্বিতীয় পাতায় ‘বন্দে মাতরম’

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একের পর এক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নতুন সরকার। স্কুলের ইউনিফর্ম থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা পদ্ধতি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের বার্তা দেওয়ার পর এবার পাঠ্যবইয়েও আসছে বড়সড় পরিবর্তন। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন বই হাতে পেতে চলেছে পড়ুয়ারা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নতুন বই ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।নতুন বইয়ের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে সংবিধান। জানা গিয়েছে, প্রত্যেকটি বিষয়ের বইয়ের প্রথম পাতায় ছাপানো থাকবে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা। পাশাপাশি সংবিধানে উল্লেখিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং মৌলিক কর্তব্য সম্পর্কেও পড়ুয়াদের সচেতন করা হবে।এই প্রসঙ্গে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা আগে থেকেই থাকলেও নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে আরও বেশি করে সচেতন করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ছোটবেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জানলে ভবিষ্যতে আরও সুশৃঙ্খল নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।শুধু সংবিধান নয়, নতুন বইয়ের দ্বিতীয় পাতাতেও থাকছে বিশেষ সংযোজন। সেখানে ছাপানো হবে রাষ্ট্রগীত ‘বন্দে মাতরম’। উল্লেখ্য, স্কুলে প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। এবার পাঠ্যবইয়ের পাতাতেও রাষ্ট্রগীতটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, বইয়ে ছাপানো থাকলে পড়ুয়াদের পক্ষে গানটি শেখা ও মুখস্থ করা আরও সহজ হবে।পাঠ্যবইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় পাতায় এই পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন সিলেবাসেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। নতুন পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, বাদ পড়তে চলেছে সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলনকে ঘিরে পাঠ্যবইয়ে এতদিন যে আলোচনা ছিল, নতুন সিলেবাসে তা আর থাকছে না বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে সিঙ্গুর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে যে অধ্যায় ছিল, তাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।