বিজয়ার আনন্দে সম্প্রীতির বন্ধন, সাহিত্য-সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গুণীজনের সম্মাননা—বিপ্লবী সংবাদ দর্পণের উদ্যোগে খড়গপুরে স্মরণীয় সন্ধ্যা!
অরিন্দম চক্রবর্তী : বিজয়ার আবেগ, আনন্দ, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এক স্মরণীয় সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল খড়গপুর শহর। বিপ্লবী সংবাদ দর্পণ (Biplabi Sambad Darpan) মিডিয়া হাউসের উদ্যোগে মালঞ্চা রোডের প্রজাপতি লজে আয়োজিত হয় বিজয়া সম্মিলনী, শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। কথায়, সুরে, ছন্দে এবং স্মৃতিচারণে সাজানো এই বিশেষ সন্ধ্যা হয়ে ওঠে এক আন্তরিক মিলনমেলা।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কবি, সমাজসেবী, ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিক এবং বিপ্লবী সংবাদ দর্পণ পরিবারের সদস্যরা।
বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি এদিনের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব পায় সামাজিক সচেতনতামূলক আলোচনা, সংগীত পরিবেশনা, কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং গুণীজনদের সম্মাননা জ্ঞাপন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিপ্লবী সংবাদ দর্পণের শারদীয়া সংখ্যার প্রকাশ।এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর মহিলা টাউন থানার আইসি প্রতিভা হালদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক রোশেনারা খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কবি সুনীল মাজী, বর্ষীয়ান সমাজসেবী মিন্টু চৌধুরী, প্রাক্তন ডিএসপি সব্যসাচী সেনগুপ্ত, মেদিনীপুর রোটারি ক্লাব ট্রাস্টের সভাপতি দীপক সিনহা, খড়গপুর রোটারি ক্লাবের সভাপতি সমীর ভি জয়সার, টেবিল টেনিস খেলোয়াড় শ্রীপর্ণা নন্দ, কবি শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজসেবী শুভদীপ সিংহ রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন খড়গপুর শহরের বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপক কুমার দাশগুপ্ত, দেবাশিস খাটুয়া ও দীপান্বিতা জানা।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান অতিথি প্রতিভা হালদার মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনাও উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
অন্যদিকে, সাহিত্যিক রোশেনারা খান তাঁর বক্তব্যে অতীত ও বর্তমান সময়ের দুর্গাপুজোর চিত্র তুলে ধরে বাঙালির উৎসব ও সংস্কৃতির বিবর্তনের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন। কবি সুনীল মাজীর কবিতা পাঠও অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে।অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্তগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বিপ্লবী সংবাদ দর্পণের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত সম্পাদক মঙ্গলা প্রসাদ রায় এবং তাঁর সহধর্মিণী প্রয়াতা অনিতা রায়ের স্মৃতিচারণ। পাশাপাশি নারায়ণ ভট্টাচার্য (নারায়ণ ভাই), রমাপ্রসাদ মুখার্জি এবং গোপীকৃষ্ণ দাসের অবদান ও স্মৃতিও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত বক্তারা।
তাঁদের জীবন, কর্ম এবং সমাজের প্রতি অবদানের নানা দিক উঠে আসে আলোচনায়। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি এই স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানকে আরও আবেগময় করে তোলে।এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয় খড়গপুর শহরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের। পাশাপাশি বিপ্লবী সংবাদ দর্পণ পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের অবদান ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং স্মারক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার এই উদ্যোগ উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করে।সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে কথায়, সুরে ও ছন্দে প্রতিধ্বনিত হয় বাংলার লোকসংস্কৃতি, সাহিত্য ও শিল্পকলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। সংগীত, কবিতা ও আবৃত্তির পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অতিথি, আমন্ত্রিত বিশিষ্টজন এবং বিপ্লবী সংবাদ দর্পণ পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতায় গোটা অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক বৃহৎ পারিবারিক মিলনমেলায়।শুধু উৎসবের আনন্দ উদ্যাপন নয়, সামাজিক সচেতনতা, সাংস্কৃতিক চর্চা, প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে বিপ্লবী সংবাদ দর্পণের এই আয়োজন।
বাংলার নিজস্ব সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্টজনদের সম্মান জানানোর যে আন্তরিক প্রয়াস এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।সব মিলিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে খড়গপুরের বুকে এক অপূর্ব সন্ধ্যার সাক্ষী হয়ে রইল বিপ্লবী সংবাদ দর্পণের বিজয়া সম্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।