মুড সুইং নয়, আজীবনের লড়াই—বাইপোলার ডিসঅর্ডার সম্পর্কে সচেতন হওয়া কেন জরুরি!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বাইপোলার ডিসঅর্ডার একটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতা, যা অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) অথবা এপিসোডিক, অর্থাৎ মাঝেমধ্যে তীব্রভাবে ফিরে আসতে পারে। এই রোগকে আগে অনেকেই ম্যানিক-ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার বা ম্যানিক ডিপ্রেশন নামেও চিনতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র সাধারণ মুড সুইং নয়, বরং মনের অবস্থা, শক্তি, কাজের গতি এবং দৈনন্দিন আচরণে বড়সড় পরিবর্তন ঘটাতে পারে।প্রত্যেক মানুষের জীবনেই ভালো-মন্দ সময় আসে, কিন্তু বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে এই ওঠানামা অনেক বেশি চরম। আক্রান্ত ব্যক্তির ম্যানিক এপিসোড দেখা দিতে পারে, যেখানে তিনি অস্বাভাবিকভাবে অত্যন্ত উৎফুল্ল, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, খিটখিটে বা অত্যধিক সক্রিয় হয়ে পড়েন। অনেক সময় ঘুমের প্রয়োজন কমে যায়, কথা বলার গতি বেড়ে যায় এবং একসঙ্গে অনেক কাজ করার প্রবণতা তৈরি হয়। আবার ডিপ্রেসিভ এপিসোডে ব্যক্তি গভীর দুঃখ, হতাশা, উদাসীনতা, শক্তিহীনতা এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে অক্ষমতার মধ্যে চলে যান। কিছু ক্ষেত্রে হাইপোম্যানিয়া দেখা যায়, যা তুলনামূলকভাবে কম তীব্র হলেও আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আনে।চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ কৈশোরের শেষভাগ বা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের শুরুতে প্রকাশ পায়। তবে বিরল ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যেও এর উপসর্গ দেখা যেতে পারে। সমস্যাটি হল, অনেকেই একে সাধারণ মানসিক চাপ বা সাময়িক বিষণ্নতা ভেবে এড়িয়ে যান, ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়।উপসর্গ মাঝেমধ্যে কমে গেলেও বাইপোলার ডিসঅর্ডার সাধারণত আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং এটি নিজে থেকে সেরে যায় না। চিকিৎসা না হলে আত্মহত্যার ঝুঁকি, চাকরি বা পড়াশোনায় সমস্যা, সম্পর্কের অবনতি এবং পারিবারিক অশান্তি বাড়তে পারে। তবে সুখবর হলো, সঠিক ওষুধ, কাউন্সেলিং এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই স্বাভাবিক জীবনযাপন, কাজের ক্ষমতা এবং জীবনমান অনেকটাই ফিরে পেতে পারেন।বিশেষজ্ঞদের বার্তা, আচরণে অস্বাভাবিক উচ্ছ্বাস, অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, দীর্ঘস্থায়ী হতাশা বা মুডের চরম ওঠানামা দেখা দিলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসাই এই রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।