জ্বর থেকে রক্তপাত! কীভাবে শরীরকে ধ্বংস করে ইবোলা ভাইরাস জানুন

নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম ইবোলা ভাইরাস। বিরল হলেও এই সংক্রামক রোগ অত্যন্ত প্রাণঘাতী বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও, আন্তর্জাতিক যাতায়াতের যুগে গোটা বিশ্বই রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভার’, যা শরীরের রক্তনালী ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তীব্র জ্বর, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা ও মাথাব্যথার পর শুরু হতে পারে বমি, ডায়ারিয়া এবং শরীরের ভিতরে-বাইরে রক্তপাত। পরিস্থিতি জটিল হলে কিডনি, লিভার ও মস্তিষ্ক পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগী শকে চলে যান। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তি বা পশুর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি কিংবা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলেই সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। দূষিত পোশাক, সিরিঞ্জ বা বিছানা থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্যের (Semen) মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। এমনকী রোগী সুস্থ হয়ে যাওয়ার ২ থেকে ৩ মাস পরেও তাঁর বীর্যে ইবোলা ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে। বর্তমানে ইবোলার বিরুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। Ebanga ও Inmazeb নামে বিশেষ মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপি আক্রান্তদের বাঁচার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি আইভি ফ্লুইড, অক্সিজেন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসাও দেওয়া হয়। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় Ervebo ও Zabdeno/Mvabea ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইবোলা থেকে সুস্থ হলেও দীর্ঘদিন চোখের সমস্যা, দুর্বলতা, পেটে ব্যথা বা জয়েন্টের যন্ত্রণা থেকে যেতে পারে। তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।