রবীন্দ্র স্মরণে রক্তদান শিবির ও কৃতি ছাত্রছাত্রী সংবর্ধনা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মনোবিকাশের
নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীকে স্মরণ করে এক অভিনব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল মেদিনীপুর শহর। মনোবিকাশ গ্রুপ অফ ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে শনিবার আয়োজিত হলো রবীন্দ্র স্মরণ অনুষ্ঠান, রক্তদান শিবির এবং কৃতি ছাত্রছাত্রী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। মেদিনীপুর শহরের মিত্র কম্পাউন্ড শাখায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।২০১৪ সাল থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার শিক্ষামূলক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে চলেছে মনোবিকাশ গ্রুপ অফ ইন্সটিটিউট। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জ্যোতির্ময় দাশের উদ্যোগে এদিনের অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন মিত্র কম্পাউন্ড উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক সুজিত বোস, কোষাধ্যক্ষ সজল দেব, সমাজকর্মী সুকুমার মিত্র, রাঙামাটি কিরণময়ী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মিশ্র, রক্তদান আন্দোলনের কর্মী শিক্ষক সুদীপ কুমার খাঁড়া, ফকরুদ্দিন মল্লিক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।পরে শুরু হয় রক্তদান শিবির। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক-অভিভাবিকা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে রক্তদান কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মোট ৩৬ জন রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। প্রতিটি রক্তদাতার হাতে একটি করে চারাগাছ তুলে দিয়ে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হয়।এদিন সদ্য প্রকাশিত মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে মনোবিকাশ গ্রুপ অফ ইন্সটিটিউটের কৃতি ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধিত করা হয়। ছেলেদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সংবর্ধিত হন অঙ্কন কুমার ঘোড়াই, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৬৫। অন্যদিকে মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সম্মানিত হন তনুশ্রী মাহাতো, তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৫০।আয়োজকদের বক্তব্য, শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেই এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আগামী দিনেও এমন সামাজিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।