Census 2027: জনসংখ্যার তথ্য থেকে নীতিনির্ধারণ, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ আলোচনা!

নিজস্ব সংবাদদাতা : জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যের গুরুত্ব এবং সেই তথ্যকে যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ বক্তৃতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের Faculty of Arts and Commerce-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বি. এন. শাসমল হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল “Census 2027: The Challenges of Making Sense of the Data”।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর দীপক কুমার কর। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, Census শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি সমাজকে বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আবাসন, পরিকাঠামো, সামাজিক কল্যাণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য Census-এর তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচা তথ্য থেকে অর্থপূর্ণ প্রবণতা চিহ্নিত করা, তার যথাযথ ব্যাখ্যা করা এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।অনুষ্ঠানের বিশেষ বক্তা ছিলেন প্রফেসর অমিতাভ কুন্ডু, Professor Emeritus, L J University, Ahmedabad এবং Jawaharlal Nehru University, New Delhi-এর প্রাক্তন অধ্যাপক।

জনসংখ্যা অধ্যয়ন, নগরায়ণ, অভিবাসন এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা অনুষ্ঠানের আলোচনাকে বিশেষ মাত্রা দেয়।প্রফেসর কুন্ডু Census-এর তথ্যকে শুধুমাত্র সংখ্যার হিসাব হিসেবে না দেখে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেন। ভারতের জনমিতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।আলোচনায় উঠে আসে, Census 2027-এর তথ্য ভবিষ্যতে অভিবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, আদিবাসী উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, নগরায়ণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যপূর্ণ রাজ্যে এই তথ্য গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।অনুষ্ঠানের Convener ছিলেন প্রফেসর দেবাশিস বিশ্বাস, Head, Department of Business Administration, Vidyasagar University।

তিনি স্বাগত ভাষণ দেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রফেসর অরিন্দম গুপ্ত, Head, Department of Commerce এবং Dean, Faculty of Arts and Commerce। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রফেসর তারক নাথ সাহু, Department of Business Administration। অনুষ্ঠানের Programme Coordinator ছিলেন ড. কাকলি দাস, Assistant Professor and Joint Coordinator, Department of Population and Development Studies।বর্তমান সময়ে Data Analytics, Artificial Intelligence এবং প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে Census-এর বিপুল তথ্যকে কীভাবে অর্থপূর্ণ জ্ঞানে রূপান্তর করা যায়, অনুষ্ঠানে সেই বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।