ডিজিটাল যুগে জনগণনা: প্রথমবার ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’, উদ্বোধন করলেন জেলাশাসক!

সেখ ওয়ারেশ আলী : দেশের ১৬তম জনগণনার প্রথম পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১ আগস্ট থেকে। এবারের জনগণনার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল প্রথমবারের মতো ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’ (Self Enumeration) বা স্বগণনা ব্যবস্থার সূচনা। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা বাড়িতে বসেই নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য সরাসরি সরকারের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে নথিভুক্ত করতে পারবেন। প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ জনগণনার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং নির্ভুল করে তুলবে।

এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রদ্যুৎ স্মৃতি সদনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনগণনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক ও কর্মীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলাশাসক বলেন, “জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।” তিনি জানান, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জনগণনার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বিজিন কৃষ্ণা আরও বলেন, জনগণনার সময় সংগৃহীত সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং তা শুধুমাত্র সরকারি নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কাজেই ব্যবহার করা হবে। তাই কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আবেদন জানান তিনি। একইসঙ্গে জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মানবিক ও আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

এবারের জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। স্বগণনার জন্য চালু হয়েছে https://se.census.gov.in পোর্টাল। ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের নাগরিকরা এই পোর্টালে লগ-ইন করে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনলাইনে জমা দিতে পারবেন।

এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় পর্যায়ের ফিল্ড এনিউমারেশন। এই পর্যায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনগণনা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করবেন।

প্রশাসনের আশা, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে এবারের জনগণনা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সম্পদ বণ্টন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।