চন্দ্রকোনা রোড রথযাত্রা ২০২৬: নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের কড়া নজর, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত
অভিজিৎ সাহা: আসন্ন চন্দ্রকোনা রোড রথযাত্রা ২০২৬-কে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গড়বেতা–৩ ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গড়বেতা–৩ ব্লকের বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,মেদিনীপুর সদর এসডিপিও, সদর আইসি, গড়বেতা থানার ওসি, গড়বেতা ট্রাফিক ওসি, চন্দ্রকোনা রোড পুলিশ বিট হাউসের আইসি, গড়বেতা ফায়ার ব্রিগেডের প্রতিনিধি, বনদপ্তরের (ফরেস্ট রেঞ্জ) প্রতিনিধি এবং চন্দ্রকোনা রোড রথযাত্রা কমিটির কর্মকর্তারা। প্রশাসন ও রথযাত্রা কমিটির মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তা ও জনসুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রথযাত্রার পুরো রুটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে রাতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের চলাচলে কোনও অসুবিধা না হয়। যানজট এড়াতে উৎসব চলাকালীন সময়ে অপ্রয়োজনীয় যানবাহন চলাচল যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রথযাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য রাত ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে রথ টানা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়াও জরুরি পরিষেবার কথা মাথায় রেখে অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল ও অন্যান্য ইমার্জেন্সি গাড়ির জন্য পৃথক করিডরের ব্যবস্থা রাখা হবে। গোটা এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রথযাত্রায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল স্বেচ্ছাসেবকের (ভলেন্টিয়ার) নামের তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে এবং প্রত্যেককে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে শব্দদূষণ রোধে ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রথযাত্রা চলাকালীন মেডিক্যাল টিম ও অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখতে হবে। ভক্তদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে রথযাত্রা শেষে যেখানে রথ অবস্থান করবে, অর্থাৎ 'মাসির বাড়ি' প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রশাসনের আশা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবছরের মতো এ বছরও বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই আগাম এই প্রস্তুতি বৈঠক ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন এবং রথযাত্রা কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে এবারের চন্দ্রকোনা রোড রথযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে।