রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে বন্ধ চার্জিং পয়েন্ট! পুরনো নিয়ম কার্যকরে তৎপর ভারতীয় রেল

নিজস্ব সংবাদদাতা:দূরপাল্লার ট্রেনে রাতের যাত্রায় মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আরও কড়াকড়ির পথে ভারতীয় রেল। ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার বিদ্যমান নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর রেল বোর্ডের নির্দেশে এই নিয়ম পালনের পাশাপাশি রেলকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নিয়ম নতুন নয়। ২০১৪ সালেই রেল বোর্ড এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল। সাম্প্রতিক নির্দেশে মূলত পুরনো নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ট্রেনে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হওয়া, শর্ট সার্কিট কিংবা ব্যাটারির ত্রুটি থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে যাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকার সময় এমন ঘটনা ঘটলে বিপদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ঝুঁকি কমাতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা।তবে এই নিয়ম কার্যকর হলে যাত্রীদের একাংশের অসুবিধা হতে পারে। বর্তমানে দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রায় স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবের ব্যবহার অত্যন্ত বেড়েছে। জরুরি ফোন, অনলাইন লেনদেন, অফিসের কাজ কিংবা গন্তব্যে পৌঁছে যাতায়াতের ব্যবস্থা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই মোবাইলের প্রয়োজন হয়। ফলে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চার্জিং পরিষেবা না পাওয়া অনেকের কাছেই সমস্যার কারণ হতে পারে।যাত্রীসুরক্ষার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক যাত্রীদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার্জিং পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করা সম্ভব কি না?নিয়মিত বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নত অগ্নিসতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ত্রুটি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।ভারতীয় রেলের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা ও যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। সাময়িক বিধিনিষেধের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আরও নিরাপদ ও আধুনিক চার্জিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।