যন্তরমন্তরের আন্দোলন থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর!
নিজস্ব সংবাদদাতা : যন্তরমন্তরে চলা পড়ুয়াদের আন্দোলনকে ঘিরে এবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইআইটি মাদ্রাজ-সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই পড়ুয়াদের আন্দোলনস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। এবার একই ধরনের নির্দেশ দিল খোদ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের জানানো হয়েছে, যন্তরমন্তরের আন্দোলনস্থলের আশপাশে থাকাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেখানে গেলে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।এমন নির্দেশ ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে পড়ুয়াদের বিরত রাখার সাহস কে দিল?এর আগে আইআইটি মাদ্রাজ-সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ুয়াদের যন্তরমন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলনের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট বা ভিডিও প্রকাশের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এবার সেই তালিকায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যুক্ত হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।এই পরিস্থিতির মধ্যে ২০ জুলাই দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বছর বয়সি ছাত্র সাহিলের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, প্রতিবাদ চলাকালীন দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহার করে তাঁর মুখে গুলি করে। বর্তমানে তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সাহিল পরিবারের ভরণপোষণের জন্য খণ্ডকালীন গাড়ি চালান। অভিযোগ, ২০২৫ সালের এসএসসি দিল্লি কনস্টেবল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনিও একজন। তাঁর আশঙ্কা, ফের একই ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে। সেই আশঙ্কা ও ন্যায়বিচারের দাবিতেই তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, প্রশ্ন তোলা এবং জবাবদিহিতা দাবি করার জন্য যদি পড়ুয়াদের উপর এমন পরিস্থিতি নেমে আসে, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি।