ট্রেনের টিকিট না কাটায় জরিমানা, পরীক্ষা মিসের পর কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা!
অভিজিৎ সাহা: পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, ট্রেনের টিকিট না কাটায় জরিমানা ও দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি ওই ছাত্রী। ঘটনার পর বাড়ি ফিরে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি পরিবারের।মৃত ছাত্রীর নাম জয়শ্রী সরকার (২০)। তিনি পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুরের বাসিন্দা এবং বর্ধমান উইমেন্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। শুক্রবার তাঁর কলেজের পরীক্ষা ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে রসুলপুর থেকে ট্রেনে বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছনোর পর টিকিট পরীক্ষক তাঁকে টিকিট দেখাতে বলেন।
অভিযোগ, তাড়াহুড়োয় টিকিট না কাটায় তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয় এবং জরিমানা দিতে হয়। এর জেরে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেননি।পরিবারের দাবি, ওই সময় তাঁকে হেনস্থাও করা হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।বাড়ি ফিরে দুপুরে নিজের ঘরে ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন জয়শ্রী। সেই সময় তাঁর মা রিঙ্কু সরকার, যিনি বিএলও-র দায়িত্বে রয়েছেন, এসআইআরের কাজে বিডিও অফিসে ছিলেন। বাবাও কাজের সূত্রে বাইরে ছিলেন। পরে বাবা বাড়ি ফিরে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।ঘটনার খবর পেয়ে মেমারি থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।এ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। টিকিট পরীক্ষক কোনও অসদাচরণ করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টিকিট না কাটলে নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয়, তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ:মানসিক চাপে থাকলে বা হতাশা অনুভব করলে একা থাকবেন না। পরিবার, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পরিষেবার সাহায্য নিন।