কমনওয়েলথে সোনা জয়ী অস্মিতার অনুপ্রেরণা রোনাল্ডোর লড়াই!

নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে। সংসারে ছিল আর্থিক অনটন, জীবনের পথে ছিল একের পর এক বাধা। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকেই শক্তিতে পরিণত করে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ইতিহাস তৈরী করেছেন ভারতীয় জুডোকা অস্মিতা দে। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে সোনা জয়ের নজির স্থাপন করেছেন তিনি। অস্মিতার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অনুপ্রেরণা। সোনি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জীবনের কঠিন মুহূর্তে রোনাল্ডোর সংগ্রামী জীবন তাঁকে নতুন করে লড়াই করার সাহস দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি যার সম্পর্কে দেখি ও পড়ি, তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। জীবনে ওঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ওঁর পুরো জার্নিটা খুব কাছ থেকে অনুসরণ করেছি আমি। রোনাল্ডো ১৯ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন। তার পরেও বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়েছেন। আজ গোটা পৃথিবী ওঁকে চেনে। তাই রোনাল্ডোই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেন।’
একটি সাধারণ কাঁচা বাড়িতে বড় হয়ে ওঠা অস্মিতার জীবনও ছিল কঠিন সংগ্রামের। তাঁর বাবা অর্জুন দে ছিলেন একজন সাইকেল মিস্ত্রি। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকা আয় করে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের খেলাধুলার স্বপ্ন পূরণে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রেন স্ট্রোকে বাবার মৃত্যু অস্মিতার জীবনে বড় আঘাত হয়ে আসে। কমনওয়েলথ গেমসে যোগ্যতা অর্জনের ঠিক আগে এই শোক তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিলেও তাঁর মা সাহস জুগিয়ে পাশে দাঁড়ান।মায়ের উৎসাহেই তিনি ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের (SAI) ভোপাল কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান। পরে খেলোয়াড় কোটায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশে চাকরিও পান, যা তাঁর ক্রীড়াজীবনে নতুন দিশা এনে দেয়।সোনার লড়াইয়ে কানাডার হেইডি কোয়াচকে পরাজিত করে ভারতের জুডোর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন তিনি। দারিদ্র্য, পারিবারিক শোক ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অস্মিতা দে প্রমাণ করে দিলেন—স্বপ্ন দেখার সাহস আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।