ট্রাম্পের ঘোষণা ঘিরে ধোঁয়াশা—লেবানন যুদ্ধবিরতি ‘১০০% নয়’, জানাল ইজরায়েল
নিজস্ব সংবাদদাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। Donald Trump হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেও, সেই দাবির পরই ভিন্ন সুর শোনা গেল ইজরায়েলের তরফে। রাষ্ট্রসংঘে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত Danny Danon স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—পরিস্থিতি এখনও “১০০ শতাংশ” স্বাভাবিক হয়নি।হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance, বিদেশমন্ত্রী Marco Rubio এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Michelle Issa-সহ একাধিক শীর্ষ কূটনীতিক। বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথমে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে, যা পরে আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এই আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং শান্তির পথে এটি বড় পদক্ষেপ।একইসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যদি সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-কে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে, তবে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরতে পারে।তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের মাঝেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন Danny Danon। তাঁর কথায়, “পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সব কিছু এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নয়।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি হেজবোল্লা রকেট হামলা চালায়, তাহলে ইজরায়েলও পাল্টা জবাব দেবে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, লেবাননের সরকারের আদৌ কতটা ক্ষমতা রয়েছে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার।উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই লেবাননের সঙ্গে তার সংঘাত চলছেই। দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৮৩ সালের লেবানন যুদ্ধের পর মার্কিন মধ্যস্থতায় এই প্রথম দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ Hezbollah।এদিকে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে ইরানের পদক্ষেপ। ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, তারা জলপথ খুলে দিলেও আমেরিকা এখনও অবরোধ বজায় রেখেছে। তাই যতক্ষণ না ইরানগামী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে বলে সাফ জানিয়েছে তারা।সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির ছায়া কাটেনি। বরং কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সামরিক সতর্কতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।