‘ডক্টর গড’,পদ্মশ্রী চিকিৎসককে ঘিরে বিতর্ক, রিপোর্টে নয়া তথ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা: পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রবীণ চিকিৎসক ও BHU-এর প্রাক্তন এমেরিটাস অধ্যাপক ডা. টি কে লাহিড়ীকে হাসপাতালে মারধরের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নয়া মোড়। অভিযোগের পর তদন্তে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছিল বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বোর্ডের রিপোর্টে মারধরের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।সম্প্রতি লাহিড়ীর চোখে রক্তজমাট ও মুখে আঘাতের চিহ্নের ছবি-সহ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তাঁর এক আত্মীয় পরিচয়দানকারী ব্যক্তি BHU-এর উপাচার্য, IMS-এর অধিকর্তা ও মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টের কাছে ই-মেল করে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের অভিযোগ তোলেন।অভিযোগ পাওয়ার পর লাহিড়ীর শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে যান IMS-BHU-এর অধিকর্তা অধ্যাপক এসএন সাংখওয়ার এবং মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. পুনীত। পরে ৩ সেপ্টেম্বর সাতটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তাঁর বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮৫ বছর বয়সি লাহিড়ী হৃদ্‌রোগ, যক্ষ্মাজনিত সমস্যা, বার্ধক্যজনিত ডিমেনশিয়া এবং আচরণগত পরিবর্তন-সহ একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রেও তিনি অনেক সময় প্রতিরোধ দেখান বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।BHU-এর দাবি, ২৭ জানুয়ারি বুকে সংক্রান্ত সমস্যার কারণে লাহিড়ীকে সির সুন্দরলাল হাসপাতালের সুপারস্পেশালিটি ব্লকে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীরা তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যা করছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত কেউ তাঁর দেখভালের দায়িত্ব নিতে হাসপাতালে আসেননি বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি খারিজ করলেও ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা লাহিড়ীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘ অবদান এবং সমাজসেবার জন্য পরিচিত ‘ডক্টর গড’ নামে খ্যাত টি কে লাহিড়ী ২০০৩ সালে BHU থেকে অবসর নেন। অবসরের পরও তিনি দীর্ঘদিন বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে গিয়েছেন। ২০০৬ সালে চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।