সমুদ্রে শক্তি বাড়াতে দিল্লির মহাপরিকল্পনা, জার্মানির সঙ্গে ৯০ হাজার কোটির ডিল!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান চিনা আগ্রাসনের জবাব দিতে বড় কৌশলগত পদক্ষেপের পথে ভারত। সমুদ্রের নীচে নজরদারি ও আক্রমণ ক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির সঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার সাবমেরিন চুক্তি করতে চলেছে নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়াবে এবং ‘ড্রাগন’-এর বাড়বাড়ন্তে লাগাম টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।এই ঐতিহাসিক চুক্তির জন্য ইতিমধ্যেই জার্মানিতে পৌঁছেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে এই চুক্তি।এই চুক্তির আওতায় ‘Project 75I’ প্রকল্পে জার্মান প্রযুক্তিতে তৈরি হবে ৬টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন। জার্মানির টাইপ ২১৪ ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে এই ডুবোজাহাজগুলি সম্পূর্ণভাবে ভারতে তৈরি করা হবে। প্রায় ৬০ শতাংশ উপকরণ থাকবে স্বদেশী, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সাবমেরিনগুলি।বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে Indian Ocean-এ চিনের বাড়তি উপস্থিতি ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।এছাড়াও Strait of Hormuz-এর মতো সংবেদনশীল এলাকায় ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী হওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারত ইতিমধ্যেই নজরদারি বাড়িয়েছে।এই নতুন সাবমেরিনগুলিতে থাকবে অত্যাধুনিক এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিন দীর্ঘ সময় জলের নিচে থেকে শত্রুর নজর এড়িয়ে অভিযান চালাতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীকে কৌশলগতভাবে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।বর্তমানে ভারতের বহু সাবমেরিনই পুরনো হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে চিন দ্রুত নৌবাহিনী শক্তিশালী করছে এবং ভারত মহাসাগরে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন ভারতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই ডুবোজাহাজগুলি ভারত মহাসাগরে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং চিন-পাকিস্তান জোটকে মোকাবিলায় কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠবে।সব মিলিয়ে, বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝে ভারতের এই পদক্ষেপ শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি—ভারতও প্রস্তুত।