চন্দ্রকোনায় ডেঙ্গির থাবা, আক্রান্ত ৪ বছরের শিশু,জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৪
নিজস্ব সংবাদদাতা : বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা পৌরসভায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলল। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চার বছরের এক শিশুর ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতা প্রচার এবং মশা নিধনের বিশেষ অভিযান।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত শিশুটি গত প্রায় ১৪-১৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানো হলেও জ্বর না কমায় পরে শিশুটিকে ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লেও স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁদের বিষয়টি জানানো হয়নি।ঘটনার খবর পাওয়ার পরই চন্দ্রকোনা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি দল ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছয়। আক্রান্ত শিশুর বাড়ির আশপাশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি কারও দীর্ঘদিন ধরে জ্বর রয়েছে কি না, সম্প্রতি কেউ অন্য এলাকা থেকে এসেছেন কি না—সেসব বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়।এর পাশাপাশি এলাকাজুড়ে মশার লার্ভা ধ্বংস করতে স্প্রে করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে যাতে কোথাও জল জমতে না দেওয়া হয় এবং বাড়ির আশপাশের আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখা হয়।জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গী জানান, আগের বছরের তুলনায় এ বছর সংখ্যাটা কম তবে একটাও যাতে একটা না বাড়ে তার জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা করছি। জেলার মানুষকে বলবো সর্বদা সতর্ক ও সচেতন হোন।” তাঁর পরামর্শ, বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখতে হবে। দু’দিনের বেশি জ্বর থাকলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ জন। টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হচ্ছে।চন্দ্রকোনায় চার বছরের শিশুর ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত স্বাস্থ্য দপ্তরের হস্তক্ষেপে বাড়ি বাড়ি পরীক্ষা ও মশা নিধনের কাজ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।