কোলাঘাটে গ্রামীণ উন্নয়নে কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের, ‘দুর্নীতির হিসাব হবে’!

অভিজিৎ সাহা : গ্রামীণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের বালাকা মঞ্চে আয়োজিত Rural Development–Outcome Review Meeting (RD-ORM)-এ রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের গতি এবং পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব-সহ রাজ্য ও জেলার একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্লকের বিডিওরা।বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েত স্তরে কোন প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোথায় সমস্যা রয়েছে এবং কোন ক্ষেত্রে কাজের গতি বা পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে কাজ পিছিয়ে রয়েছে, সেগুলি আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে গতি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবাস যোজনায় অনিয়ম, নোটিশ প্রায় সাড়ে ১২ হাজারকে :

আবাস যোজনায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও বহু ব্যক্তি আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। এমন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার জন টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “সব দুর্নীতির হিসাব হবে।” একইসঙ্গে প্রকৃত যোগ্য অথচ এখনও আবাস যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষদের দ্রুত প্রকল্পের আওতায় আনার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দফতরের পক্ষ থেকে স্পেশাল অডিটও করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

পড়ে থাকা অর্থ দ্রুত কাজে লাগানোর নির্দেশ :

বিভিন্ন ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ পড়ে থাকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সরকারি অর্থ যাতে অযথা পড়ে না থাকে এবং নির্ধারিত প্রকল্পে দ্রুত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

শৌচালয় নির্মাণে বদল অর্থ প্রদানের নিয়ম :

শৌচালয় নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে অর্থ প্রদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের কথা জানান দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে শৌচালয় নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর অর্থ দেওয়া হত। এখন কাজ শুরু করার সময় ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে এবং নির্মাণ শেষ হলে বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।এই পরিবর্তনের ফলে যেসব এলাকায় শৌচালয় নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে, সেগুলি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

‘পারফরম্যান্স ও ডেলিভারি’-তে বিশেষ জোর :

বৈঠক শেষে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে দেন, সরকারের লক্ষ্য এখন ‘পারফরম্যান্স’ এবং ‘ডেলিভারি’। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে দ্রুত, স্বচ্ছভাবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পঞ্চায়েত স্তরে কোনও দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও আধিকারিকদের সতর্ক করেন মন্ত্রী। গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের গতি বাড়ানো, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পর্যালোচনা বৈঠক বলে দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।