শালবনির প্রত্যন্ত পিরচকে ৪৫ জনের হাতে পুজোর নতুন পোশাক, মানবিক উদ্যোগ ইমারজেন্সী ব্লাড ফাউন্ডেশনের

নিজস্ব সংবাদদাতা : শারদোৎসবের আনন্দ সমাজের প্রান্তিক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ফের মানবিক উদ্যোগ নিল মেদিনীপুর শহরের সামাজিক সংগঠন ‘ইমারজেন্সী ব্লাড ফাউন্ডেশন’। প্রথম পর্বের সাফল্যের পর মহালয়ার পরদিন, ১১ অক্টোবর রবিবার বিকেলে শালবনি ব্লকের জঙ্গলঘেরা প্রত্যন্ত পিরচক গ্রামে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্ব সম্পন্ন করল সংগঠনটি।শালবনির এই প্রত্যন্ত গ্রামে মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। দুর্গাপুজোর আনন্দ তাঁদের কাছেও পৌঁছে দিতে এদিন গ্রামে উপস্থিত হন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। গ্রামের প্রায় ১৪ জন মহিলা-সহ শিশু, প্রবীণ ও মোট ৪৫ জন দুঃস্থ মানুষের হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। নতুন জামাকাপড় পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবারের সদস্যদের মুখেও দেখা যায় আনন্দের ছাপ।

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক রাহুল কোলে, গোপাল সাহা, সৌমেন হেলানী, সৌভিক পট্টনায়ক-সহ অন্যান্য সদস্যরা। তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি পুজোর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।সংগঠনের সম্পাদক রাহুল কোলে জানান, শহরের জাঁকজমকের বাইরে জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকায় বহু পরিবারের কাছে পুজোর নতুন পোশাক এখনও স্বপ্নের মতো।

উৎসবের প্রকৃত আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত বলে মনে করে সংগঠন। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। আগের দিন কাঁসাই নদী তীরবর্তী অঞ্চলে প্রথম পর্বের কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর পিরচকে দ্বিতীয় পর্বের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। শিশুদের মুখের হাসিই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, মেদিনীপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এবং দুর্গম এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে টানা ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করেছে ইমারজেন্সী ব্লাড ফাউন্ডেশনের পুজো উপহার কর্মসূচি। শারদোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা উঠে এসেছে।