গবেষণাগার থেকে প্রত্যন্ত মানুষের দোরগোড়ায়—সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত আইআইটি খড়গপুরে!
নিজস্ব সংবাদদাতা : গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে বাজার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আইআইটি খড়গপুরে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক DSIR-CRTDH এবার টেকসই পর্যায়ে প্রবেশ করল। শনিবার এই পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসআইআর-এর সচিব এবং সিএসআইআর-এর মহাপরিচালক ডঃ এন. কালাইসেলভী।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক তথা CRTDH-এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী। আইআইটি খড়গপুরের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।২০১৯ সালে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন ডিএসআইআর-এর CRTDH প্রকল্পের আওতায় এই হাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক অনুদান-নির্ভর পর্যায় সফলভাবে শেষ করে এবার এটি স্বনির্ভর জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ শুরু করল।
ব্যবহারকারী ফি, শিল্প সংস্থার সহযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রয়োগমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কেন্দ্রটির পরিচালন ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।ইতিমধ্যেই হাবটি ২০টিরও বেশি প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা এবং তৃণমূল স্তরে সাশ্রয়ী রোগনির্ণয় প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গেও কাজ করছে কেন্দ্রটি।অনুষ্ঠানে ডঃ এন. কালাইসেলভী চিকিৎসা প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে MSME, স্টার্টআপ এবং স্বতন্ত্র উদ্ভাবকদের সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সরকারি সহায়তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও CRTDH-এর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
এদিন তিনি CRTDH-এর ওয়েট ও ড্রাই ল্যাবরেটরি এবং থ্রাইভ সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরে আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসে একটি চারাগাছ রোপণ করেন, যা হাবটির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা মানে শুধু চিকিৎসা প্রযুক্তির দাম কমানো নয়।
প্রত্যন্ত ও সীমিত পরিকাঠামোর পরিবেশেও যাতে প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেজন্য সমাধানগুলোকে সহজলভ্য, শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত করে তোলাও জরুরি।প্রায় ৫,০০০ বর্গফুটের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে পরিচালিত এই হাব আগামী দিনে MSME, স্টার্টআপ, উদ্ভাবক ও অন্যান্য অংশীদারদের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গবেষণাগার থেকে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও জোরদার করবে।