জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনে শুরু ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৫ জুলাই ২০২৬: জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শনিবার বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হল ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপ। ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় সামরিক ঐতিহ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতিকে তুলে ধরে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপরই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গল এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট—ঐতিহাসিক কলকাতা ডার্বির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের ডুরান্ড কাপ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া বিভাগ এবং উপভোক্তা বিষয়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডঃ ইন্দ্রনীল খান, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ এবং ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির পৃষ্ঠপোষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া বিভাগের সচিব অবনীন্দ্র সিং, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল দীনেশ কুমার সিং এবং অন্যান্য শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবেও।

সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। খুকরি নৃত্য, গটকা, সেরাইকেল্লা ছৌ, কালারিপায়াত্তু, ঝাঁঝ পাঠক এবং ক্রাভ মাগা-সহ বিভিন্ন সামরিক কৌশল ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা দর্শকদের নজর কাড়ে।

এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উঠে আসে বাংলার বহুমাত্রিক সংস্কৃতি। রবীন্দ্রসংগীত, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচনা, বাউল গান, শ্রীখোল, ধামসা-মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্য, পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্যে মহিষাসুরমর্দিনীর উপস্থাপনা এবং সর্ব-মহিলা ঢাক দলের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে। ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তাও তুলে ধরা হয় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আনুষ্ঠানিক ট্রফি ড্রিল। সেখানে ডুরান্ড কাপের তিনটি প্রতীকী ট্রফি—ডুরান্ড কাপ, প্রেসিডেন্টস কাপ এবং সিমলা ট্রফি—প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি একটি বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপের দীর্ঘ ইতিহাস ও ভারতীয় ফুটবলে তার অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ম্যাচ বল, ইস্টার্ন কমান্ড ফ্ল্যাগ, ডুরান্ড কাপ ফ্ল্যাগ এবং এআইএফএফ ফেয়ার প্লে ফ্ল্যাগ মাঠে নিয়ে আসা হয়। এর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব, শৃঙ্খলা এবং ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের মূল্যবোধকে সামনে রাখা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় অন্তর্ভুক্তির বার্তাও। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করে শিশুরা। তাদের মধ্যে ছিল ইস্টার্ন কমান্ড পরিচালিত আশা স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়া, ব্যারাকপুর অ্যাভিনিউ উইমেন্স কালচারাল অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির শিশুরা এবং কর্মরত সেনা সদস্যদের সন্তানরা।

এরপর বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের আকাশপথে অভিবাদন। জাতীয় পতাকা ও ডুরান্ড কাপের পতাকা বহন করে স্টেডিয়ামের উপর দিয়ে উড়ে যায় হেলিকপ্টারগুলি।

অংশগ্রহণকারী দল ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডঃ ইন্দ্রনীল খান আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং কিক-অফ করেন। এরপর অংশগ্রহণকারী দল, বিশিষ্ট অতিথি এবং তিনটি প্রতীকী ট্রফিকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটো তোলা হয়।

তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সহযোগিতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের উদ্যোগে আয়োজিত ডুরান্ড কাপ বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম চলমান ফুটবল প্রতিযোগিতা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট আজও ভারতীয় ফুটবলে তার ঐতিহ্য ও গুরুত্ব অটুট রেখেছে।

এবারের ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৫ জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। কলকাতা, রাঁচি, গুয়াহাটি, শিলং ও ইম্ফল—এই পাঁচটি শহরে মোট ছয়টি ভেন্যুতে ২৪টি দল ৪৩টি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলির মধ্যে শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি বিদেশি দলও রয়েছে।

টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পনসর ইন্ডিয়ানঅয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড। পাওয়ার্ড বাই স্পনসর হিসেবে রয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ও কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড। অফিশিয়াল ব্রডকাস্ট পার্টনার সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ছয়টি দেশে ৪৩টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে। টুর্নামেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে চেরি ট্রি সলিউশনস লিমিটেড।