অগ্নিমূল্য প্রাকৃতিক ছাতু, তবু বাজারে উপচে পড়া ভিড়—বছরে মাত্র কয়েক দিনের স্বাদ!
সুমন মন্ডল : একদিকে হাতির আতঙ্কে গভীর জঙ্গলে যেতে চাইছেন না বহু গ্রামবাসী। অন্য দিকে, বর্ষার শেষে জঙ্গলে ফুটতে শুরু করেছে জঙ্গলমহলের অন্যতম পরিচিত বুনো ছাতু— দুর্গা ছাতু বা কাড়াঙ ছাতু। হাতির অবস্থানের কারণে জঙ্গল থেকে ছাতু সংগ্রহ করা অনেকটাই কমেছে। আর সেই কারণেই বাজারে চড়ছে দুর্গা ছাতুর দাম বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। কোনও কোনও মার্কেটে খাসির মাংসের দামকেও পিছনে ফেলেছে এই ছাতুর দাম।দাম আকাশছোঁয়া, তবুও চাহিদায় কোনও ভাটা নেই।
বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন জঙ্গলে মেলে প্রাকৃতিক ছাতু। সেই স্বাদ পেতে দাম বেশি হলেও বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। চন্দ্রকোনার গাছশীতলা ছাতুর বাজারে দেখা গেল এমনই ছবি।ছাতুপ্রেমীদের দাবি, প্রাকৃতিকভাবে জঙ্গলে পাওয়া এই ছাতুর স্বাদ ও গন্ধ একেবারেই আলাদা। রান্নার পর এর স্বাদ অনেকটা মাংসের মতো বলেও দাবি করেন অনেকে। ফলে বছরের অল্প কয়েক দিনের জন্য বাজারে আসা এই ছাতুর চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
চাহিদার তুলনায় জোগান সীমিত। বছরের নির্দিষ্ট সময়েই কেবল জঙ্গলে পাওয়া যায় এই প্রাকৃতিক ছাতু। তার উপর রয়েছে সংগ্রহের ঝুঁকি। গভীর জঙ্গলে গিয়ে ছাতু সংগ্রহ করতে হয়। কোথাও হাতির আতঙ্ক, কোথাও আবার সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ভয়—সবকিছুকে উপেক্ষা করেই সংগ্রাহকেরা জঙ্গলে ঢুকে ছাতু সংগ্রহ করেন। পরে সেই ছাতুই পৌঁছে যায় বাজারে।
সংগ্রাহকদের পরিশ্রম ও ঝুঁকির পাশাপাশি সীমিত সময়ে পাওয়া যাওয়ার কারণেই ছাতুর দাম চড়া বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে দাম যতই হোক, এই মরশুমি স্বাদ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে নারাজ ক্রেতারা।
গাছশীতলার বাজারে তাই সকাল থেকেই ছিল ক্রেতাদের ভিড়। কেউ কিনছেন বাড়ির রান্নার জন্য, আবার কেউ বছরের একবারের এই বিশেষ স্বাদ উপভোগ করতে ছাতু নিয়ে ফিরছেন বাড়ি।
অল্প সময়ের জোগান, জঙ্গলের ঝুঁকিপূর্ণ সংগ্রহ আর স্বাদের টান—সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক ছাতুকে ঘিরে চন্দ্রকোনার বাজারে যেন তৈরি হয়েছে আলাদা এক উৎসবের আবহ।