কেরোসিন কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় দুর্গাপুর, ১৬ হাজার লিটার তেলের হদিস নেই! নোটিশ ডাইরেক্টরকে!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  মাত্র কয়েক মাস আগে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠিত হয়েছে ডিএসপি এমপ্লয়িজ কনজিউমার কো-অপারেটিভ-এ। এর মধ্যেই সামনে এল বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ, যা ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চল জুড়ে। অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ কেরোসিন তেলের হদিস মিলছে না।সূত্রের খবর, এই কো-অপারেটিভের মাধ্যমেই দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপ-এর ১০টি ডিপোতে কেরোসিন সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কেরোসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর শংকর সরকার কাউকে না জানিয়েই প্রথমে সদস্য সুশীল দাসের মাধ্যমে ৪ হাজার লিটার এবং পরে নিজে স্বাক্ষর করে আরও ১২ হাজার লিটার কেরোসিন তেল তুলে আনেন। এই তেল আনা হয় খনি অঞ্চল উখরা-র নির্দিষ্ট কেরোসিন ডিলারের কাছ থেকে। কিন্তু অভিযোগ, মোট প্রায় ১৬ হাজার লিটার তেল দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের অধীনস্থ ১০টি কেরোসিন ডিপোর কোনওটিতেই পৌঁছায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—তাহলে এত বিপুল পরিমাণ তেল গেল কোথায়? জানা গেছে, নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর জানুয়ারি মাসে কেরোসিন তেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০০ টাকা থাকায় অনেকেই তেল নিতেন না।

সেই কারণে ওই মাসে তেল তোলা হয়নি। পরে দাম কমে গেলে ফেব্রুয়ারি মাসে দু’দফায় প্রায় ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন তোলা হয়। এর মধ্যে কাজোড়া এলাকার গুপ্তা অটোমোবাইল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস থেকে ৪০৬২ লিটার এবং পরে আরও প্রায় ১২ হাজার লিটার তেল তোলা হয়।কিন্তু সেই তেলের কোনও হদিস না মেলায় অভিযোগ উঠেছে, বিপুল পরিমাণ তেল খোলা বাজারে বিক্রি করে ব্যক্তিগত মুনাফা লুট হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিল্পাঞ্চল ও কারখানা মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দাবি তুলেছেন, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ তেল যদি এভাবে বেহাত হয়ে থাকে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।এই অভিযোগের জেরে কেরোসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাইরেক্টর শংকর সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আগামী সাত দিনের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ কেরোসিন তেল কোথায় গেল, তার বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।